নতুন গাড়ি চালকদের জন্য চলে এসেছে সেরা ১০টি ড্রাইভিং টিপস

আপনি যদি নতুন ড্রাইভিং শিখে থাকেন বা ভাবছেন যে ড্রাইভিং শিখবেন এবং নিজের শখের গাড়ীটি নিজেই চালাবেন তবে এই আর্টিকেল আপনার জন্যোই। এই আর্টিকেলে আপনার সাথে শেয়ার করবো ড্রাইভিং এর কিছু টুকিটাকি টিপস এন্ড ট্রিকস যা আপনাকে রাস্তায় আরো নিরাপদ করতে সাহায্য করবে।

১। ট্রাফিক রুলসঃ

ড্রাইভিং শেখার সময় সবার আগে এই নিয়ম গুলো শিখানো হলেও গাড়ি চালাতে গেলে সবার আগে আমরা এই নিয়ম গুলোই ভুলে যাই। যে কারনে ঘটে দুর্ঘটনা। তাই আইন মেনে চলতে হবে। রং সাইডে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। রাস্তার বিভিন্ন ট্রাফিক নির্দেশনা প্রদানকারী বোর্ড গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

২। যত গতি তত ক্ষতিঃ

নতুন ড্রাইভারদের মধ্যে গাড়ীতে উচ্চ গতি তুলতে পারাটা যেন একটা বিশাল এচিভমেন্ট এর শামিল। বিশেষ করে তরুণ বা সদ্য কৈশোর পার করা কোন ড্রাইভার হলে তো কথাই নেই। কিন্তু ড্রাইভিংয়ে এই গতি তুলতে চাওয়া নিয়ে আসে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। কিন্তু আপনি নতুন অবস্থায় যখন গাড়ী চালাবেন তখন আপনি চেষ্টা করবেন রাস্তার দেওয়া স্পিড লিমিট গুলো অনুসরন করে চালাতে, এতে একদিকে যেমন আপনার জ্বালনী সাশ্রয় হবে তেমনি থাকবেন নিরাপদ। আপনি আপনার পারিপার্শীক অবস্থা সমবন্ধে ধারনা নিতে পারবেন। সুতরাং নতুন অবস্থায় “নো ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস” ।

৩। ডিফেন্সিভ ড্রাইভ করুনঃ
আপনি যখন নিজে ড্রাইভিং সিটে বসবেন এর প্রমাণ আপনি কিছুদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবেন । তাই সতর্ক থাকুন , অযথা ঝুকি নেয়া থেকে বিড়ত থাকুন। সরু রাস্তায় গতি কমিয়ে ড্রাইভ করুন । আপনি ভাল গাড়ী চালাতে জানলেও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন যার জন্য আপনি কোন ভাবে দায়ী না হলেও ক্ষতিটা আপনার বা আপনার গাড়ীরই বেশি হবে।

৪। গাড়ী বের করার আগে যা যা খেয়াল করবেনঃ

বের হওয়ার আগে গাড়ীতে ইঞ্জিন অয়েল , ব্রেক ওয়েল , গিয়ার অয়েল , টায়ার ভাল করে খেয়াল করে নিবেন। এবং সবচেয়ে জরুরী যে বিষয় তা হলো গাড়ীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে কিনা তা চেক করে দেখে নিবেন । যে কোন প্রয়োজনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি গুলো অবশ্যই টুল্বক্সে রাখবেন।

৫। গাড়ির লুকিং গ্লাস এবং অন্যান্য এডজাস্টমেন্টঃ

ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে গেলে প্রায়ই একটা প্রশ্ন করা হয় “ড্রাইভারের চোখ কয়টি?” উত্তর হচ্ছেঃ ৫টি । দুটি নিজের আর দুটি হচ্ছে দুই পাশে লুকিং গ্লাস এবং একটি রেয়ার-লুকিং গ্লাস। গাড়ীতে বসেই এই আয়না গুলোর পজিশনিং ঠিক আছে কিনা তা দেখে নিন। এবং পাশাপাশি স্টিয়ারিং এবং ড্রাইভিং সিট এর পজিশনিংও ড্রাইভার তার সুবিধামতো করে নিতে পারেন।

৬। “১০০ হাত দূরে থাকুন”ঃ

এই লেখাটি ৯০ এর দশক এ প্রায় সব ট্রাকের পিছনেই লেখা থাকতো এখনো জ্বালানী তেলে ট্রাকগুলোর পিছনের বাম্পারে দেখতে পাওয়া যায়। নাহ, আপনাকে ১০০ হাত দূরে থাকা লাগবেনা। তবে সামনের গাড়ী থেকে অবশ্যই একটি নিরাপদ দুরত্ব রেখে গাড়ী চালাতে হবে। যাতে কোন কারন বশত সামনের গাড়ীটী হঠাত ব্রেক কষলে আপনার সাধের গাড়ির সামনের অংশ যেন দুমড়ে মুচরে না যায়। তবে দুঃখের ব্যাপার হলেও সত্য যে আমরা এই ভুলটি হরহামেশাই করি। এবং এর ফলও রাস্তায় কিছু দিন পর পরই দেখা যায়।

৭। মোড় গুলোতে কখনো ওভারটেকিং করবেন নাঃ

হাইওয়ে গুলো এমনিতেই খুবই বিপদজনক। এখানে ওভারটেকিং খুবই সাবধানতার সাথে করতে হয়। আর সবচেয়ে সাবধান থাকতে হয় রাস্তার বাঁক গুলো তে। যে সব স্থানে রাস্তা ডানে বা বামে মোড় নিচ্ছে সেখানে কখনোই ওভার টেকিং করবেননা। কারন আপাতো দৃষ্টিতে রাস্তা ফাকা মনে হলেও হঠাতই বিপরীত দিক থেকে আসতে পারে গাড়ি।

৮।বাস বা ট্রাক এর মতো বড় বাহন গুলো কখনো বাম দিক থেকে ওভার টেক করবেন নাঃ

লেফট হ্যান্ডেড ড্রাইভিং এর সকল দেশ গুলোতে যদিও সব ধরনের যানবাহন ডান দিক দিয়েই ওভারটেক করার নিয়ম তবুও বাংলাদেশের রাস্তায় বের হলে আপনি এর ব্যাতিক্রম প্রতিদিনই দেখতে পাবেন। কিন্তু বড় এবং উচ্চতা সমপন্ন বাহন গুলো ওভার টেকের সময় ভুলেও এ কাজ করতে যাওয়া উচিত নয়। কারন তাদের গাড়ীর বৃহদ আকারের কারনে অনেক সময়ই ড্রাইভার বাম পাশে ভাল মত দেখতে পায়না। যদিও হেল্পার থাকে তবুও দুর্ঘটনা ঘটেই ।
৯। ভেজা রাস্তায় সাবধানঃ

ভেজা বা কাদাযুক্ত পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারন ভেজা রাস্তায় চাকার গ্রিপ পেতে সমস্যা হয়। তাই একটু দূর থেকেই ব্রেক কষুন।

১০। কোন কিছুর ঝোঁকে বা হুজুগ নিয়ে কিংবা প্রভাবিত হয়ে গাড়ি চালাবো নাঃ

গাড়ী চালানোর সময় মনে রাখুন এটা শুধু একটি কাজ না বরং আপনার পাশাপাশি গাড়িতে থাকা বাকি সবার জীবনের সুরক্ষার দায়িত্বও আপনার , তাই ঝোকের মাথায় অহেতুক পাল্লা, কিংবা গাড়ীতে চলতে থাকা আড্ডায় মশগুল হয়ে যাওয়া অথবা ঘুম চোখে গাড়ী চালাবেন না। রাগের মাথায়, বা অতি আবেগে অন্যমনষ্ক হয়ে গাড়ি চালনো থেকে বিরত থাকুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy