‘ড্রাগন’ নামটি শুনলেই কল্পনার ভয়াল প্রাণীটির কথা মনে এলেও, এখানে কথা হচ্ছে এক অসাধারণ বিদেশি ফল ‘ড্রাগন ফল’ বা পিটায়া (Pitaya) নিয়ে। এক সময় যা কেবল ভিনদেশের বাজারে মিলত, এখন তা দেশের যেকোনো বড় শপিং মল বা সুপারশপেই সহজলভ্য। শীতকালীন গাজর বা কমলালেবুর মতো পরিচিত ফলের থেকেও এর উপকারিতা অনেক বেশি, এবং এর মধ্যে লুকিয়ে আছে অসংখ্য স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ।
ড্রাগন ফলের অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলি হলো:
১. ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে: ড্রাগন ফল রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থিতিশীল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। এতে থাকা প্রচুর আঁশ (ফাইবার) রক্তে গ্লুকোজের শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে, যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এবং বিদ্যমান ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। গর্ভবতী মায়েরাও এই সুস্বাদু ফলটি নিরাপদে খেতে পারেন, যা তাদের স্বাস্থ্য স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
২. তারুণ্য ধরে রাখে: বয়সের ছাপ দূর করতে এবং ত্বককে দৃঢ় ও সতেজ রাখতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের প্রয়োজন অপরিসীম। ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি এবং অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে এবং বয়সের লক্ষণগুলিকে বিলম্বিত করতে সাহায্য করে।
৩. ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক: ড্রাগন ফল ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। এই ফলে ক্যারোটিন নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, যা শরীরে টিউমার গঠন প্রতিরোধ করতে এবং বিদ্যমান টিউমারকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
৪. হজমে সহায়তা: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ড্রাগন ফল রাখা হজম প্রক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। ড্রাগন ফলে আঁশের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, যা পরিপাক প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং বদহজম বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
৫. হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখে: ড্রাগন ফল শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে। নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: ড্রাগন ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সমস্ত গুণাবলীই বিদ্যমান। বিশেষত, এতে থাকা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং বিভিন্ন রোগ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। নিয়মিত এই ফলটি খেলে আপনার শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকবে।
ড্রাগন ফল শুধু স্বাদে বৈচিত্র্য আনে না, এটি আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে এই ‘সুপারফ্রুট’কে অন্তর্ভুক্ত করে আপনিও পেতে পারেন দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন।