জীবনের ব্যস্ততা বা ভ্রমণের আগে কয়েকদিন বেশি ঘুমিয়ে শরীরকে প্রস্তুত করার এই নতুন কৌশলের নামই হলো ‘স্লিপ ব্যাংকিং’। যদিও সাধারণ ভাষায় মানুষ একে ‘রিপ্লেনিশ স্লিপ’ বা ক্লান্তি দূর করার উপায় হিসেবে জানে, তবে বিজ্ঞানীরা এখন দেখছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে করা হলে ভবিষ্যতের ঘুমের ঘাটতি মোকাবিলায় কতটা সাহায্য করতে পারে।
স্লিপ ব্যাংকিং কী? সহজ কথায়, কোনো বড় শারীরিক বা মানসিক চাপের কাজের আগে কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ঘুমানোই হলো স্লিপ ব্যাংকিং। এর উদ্দেশ্য হলো শরীর ও মস্তিষ্ককে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিয়ে পরবর্তী সময়ে অনিয়মিত ঘুমের প্রভাব কমানো।
গবেষণা কী বলছে?
সামরিক গবেষণা: ২০০৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ পাওয়া সেনারা পরবর্তীতে কম ঘুমের সময়েও অন্যদের চেয়ে বেশি সতর্কতা ও মনোযোগ বজায় রাখতে পেরেছেন।
পেশাদার ক্ষেত্র: চিকিৎসকদের নাইট শিফট শুরুর আগে বা অ্যাথলিটদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘুমের প্রভাব ইতিবাচক প্রমাণিত হয়েছে। টেনিস বা বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের দক্ষতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষমতা বাড়াতেও এর ভূমিকা দেখা গেছে।
বিজ্ঞানীদের দ্বিমত: সব বিশেষজ্ঞ অবশ্য এই ধারণার সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মতে:
ঘুম ব্যাংক নয়: অধিকাংশ বিজ্ঞানীর দাবি, ঘুম কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো নয় যেখানে আগেভাগেই টাকা জমা রাখা যায়। বেশি ঘুমানোর সময় শরীর মূলত অতীতের ঘুমের ঘাটতিই পূরণ করে।
রক্ষণাবেক্ষণের সময়: ঘুমের সময় শরীরে হরমোন নিয়ন্ত্রণ ও মস্তিষ্কের বর্জ্য পরিষ্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়। এটি কোনো সঞ্চয় নয়, বরং শরীরের আবশ্যিক ‘রক্ষণাবেক্ষণ’।
বিপরীত প্রতিক্রিয়া: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর ক্লান্ত না হলে অতিরিক্ত ঘুমানোর চেষ্টা করলে উল্টো মাথা ভারী হওয়া বা অলসতার সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: যারা ব্যস্ততার আগে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে চান, তাঁদের জন্য কিছু কার্যকর পরামর্শ: ১. চাপপূর্ণ সময় শুরুর অন্তত ১-২ সপ্তাহ আগে থেকে প্রতিদিন ৩০-৬০ মিনিট বাড়তি ঘুমানোর অভ্যাস করুন। ২. সকালে দেরিতে ওঠা কিংবা রাতে আগেভাগে ঘুমানোর মাধ্যমে ঘুমের সময় বাড়াতে পারেন। ৩. দিনের বেলা ছোট ‘পাওয়ার ন্যাপ’ নিতে পারেন।
উপসংহার: সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে একটি বিষয় স্পষ্ট—ঘুম ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা যায় কি না, তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম যে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সাময়িক কৌশলের চেয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর স্থিতিশীল অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর।





