চা-বিস্কুট প্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ, এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে গুরুতর বিপদ!

সকালের বেড-টি হোক বা বিকেলের আড্ডা, অথবা বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন – চায়ের সঙ্গে বিস্কুট যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেকেরই এই অভ্যাসটি এতটাই গভীর যে চা ছাড়া বিস্কুট, আর বিস্কুট ছাড়া চা অসম্পূর্ণ মনে হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার এই অভ্যাস মোটেই নিরাপদ নয়, বরং এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন এই অভ্যাস আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত:

১. পাম তেল ও ময়দার ক্ষতিকর প্রভাব:
অধিকাংশ বিস্কুট তৈরিতে পাম তেল ব্যবহার করা হয়, যা হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর পাশাপাশি, বিস্কুটের মূল উপাদান হলো ময়দা (refined flour)। ময়দার মধ্যে থাকা গ্লুটেন, বিভিন্ন মাইক্রো ও ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টস রক্তে সুগারের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। ময়দার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণ হতে পারে।

২. প্রিজারভেটিভ ও সোডিয়ামের বিপদ:
বিস্কুটে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ (সংরক্ষণকারী উপাদান) এবং সোডিয়াম (লবণ), যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়ায় এবং কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার জন্ম দিতে পারে। প্রিজারভেটিভগুলিও শরীরের অভ্যন্তরে রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

৩. আসক্তি সৃষ্টিকারী প্রভাব:
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বিস্কুট খেতে শুরু করলে খুব সহজে থামা যায় না। এর কারণ হলো, বিস্কুট খেলে মস্তিষ্কে কোকেন ও মরফিনের মতো উপাদান তৈরি হয়, যা এক ধরনের আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে। ফলে একটি বা দুটি বিস্কুটের জায়গায় অজান্তেই আমরা একাধিক বিস্কুট খেয়ে ফেলি। এই আসক্তি অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে ঠেলে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও, চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার এই অভ্যাস নিয়মিত চলতে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া জরুরি। যেমন – চায়ের সাথে বাদাম, ফল বা মুড়ির মতো স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস গ্রহণ করা যেতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy