বাঙালি হেঁশেলে সাধারণত আন্দাজ মেপে মশলা দেওয়াই দস্তুর। তবে রান্নার স্বাদকে যদি রেস্তোরাঁর মতো নিখুঁত করতে হয়, বিশেষ করে বেকিংয়ের ক্ষেত্রে, তবে চামচের মাপ বোঝা অত্যন্ত জরুরি। চোখে দেখতে খুব বেশি তফাত মনে না হলেও, চা চামচ (Teaspoon) এবং টেবিল চামচের (Tablespoon) মধ্যে পরিমাণের আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।
গাণিতিক হিসেব: ৫ বনাম ১৫
রান্নার ব্যালেন্স ঠিক রাখার জন্য এই সহজ অংকটি মনে রাখা দরকার:
-
১ চা চামচ = প্রায় ৫ মিলিলিটার।
-
১ টেবিল চামচ = প্রায় ১৫ মিলিলিটার।
-
অর্থাৎ, ১ টেবিল চামচ = ৩ চা চামচ।
কখন কোনটি ব্যবহার করবেন?
| উপকরণের ধরন | কোন চামচ ব্যবহার করবেন? | কেন? |
| মশলা, নুন, বেকিং পাউডার, এসেন্স | চা চামচ (Teaspoon) | এই উপকরণগুলি সামান্য কম-বেশি হলেই খাবারের স্বাদ বা গন্ধ পুরোপুরি বিগড়ে যেতে পারে। |
| তেল, মাখন, চিনি, সস বা মধু | টেবিল চামচ (Tablespoon) | এগুলি মূলত মূল উপকরণের বাইন্ডিং বা মিষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় মাপে প্রয়োজন হয়। |
বেকিংয়ের ক্ষেত্রে সাবধান!
সাধারণ তরকারি বা ঝোলে নুন-মিষ্টির সামান্য হেরফের সামলে নেওয়া গেলেও, কেক বা পেস্ট্রির ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। চা চামচের জায়গায় টেবিল চামচ দিয়ে ফেললে উপকরণ তিনগুণ হয়ে যাবে। ফলে কেক শক্ত হয়ে যাওয়া, চুপসে যাওয়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
তাই রান্নাকে শিল্পে পরিণত করতে চাইলে শুধু হাতের জাদু নয়, চামচের অংকেও দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। সঠিক মাপে তৈরি পদটি স্বাদে, গন্ধে এবং রঙে হবে একেবারে নিখুঁত।