অনেকেরই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাস থাকে। বেশি রাত করে ঘুমানোর ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠেন দেরি করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সকালের নাশতার সময়েও। মোট কথা, এই অনিয়মিত জীবনযাত্রা সমস্ত দৈনন্দিন অভ্যাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, এর ফলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে নানা মরণঘাতী রোগ, যা আপনার অকালমৃত্যুর কারণও হতে পারে!
স্বাস্থ্য বিষয়ক বিখ্যাত জার্নাল ‘অ্যাডভান্সেস ইন নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, রোজ বেশি রাত করে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে দেরি করে ওঠার অভ্যাস থেকে হার্টের অসুখ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়।
গভীর রাতের অভ্যাসের ক্ষতি
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘুমের ক্ষেত্রে যাদের এমন অনিয়মিত অভ্যাস রয়েছে, তাদের জীবনযাত্রায় আরও কিছু ক্ষতিকর প্রবণতা দেখা যায়:
-
ভুল খাদ্যাভ্যাস: তারা রাতের মেনুতে সচরাচর মশলাদার এবং গ্লুকোজযুক্ত খাবার রাখেন।
-
মদ্যপানের প্রবণতা: এদের ক্ষেত্রে মদ্যপানের প্রবণতাও বেশি হয়।
গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য
গবেষকরা আরও মনে করছেন, এই অনিয়মিত অভ্যাসের বীজ বপন হয় প্রতিটি ব্যক্তির শৈশবেই। অনিয়মিত জীবনযাপন প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়। আর এ থেকেই হার্টের রোগ বা ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
মানুষের শরীরে রাতের দিকে গ্লুকোজের পরিমাণ সবচেয়ে কম থাকা উচিত। কিন্তু অনেক রাতে, অর্থাৎ ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগেই ডিনার করার ফলে রাতে শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। এটিও স্বাস্থ্যের ক্ষতির অন্যতম কারণ।
কাজেই, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পেতে চাইলে এই ধরনের অনিয়মিত জীবনযাপন থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সঠিক সময়ে ঘুম, সময়মতো নাশতা এবং রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার সেরে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।