শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য কিডনির স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি আমাদের শরীরের রক্ত পরিশোধন করে এবং দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। যদি কিডনি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে দেহের বজ্র নিষ্কাশন সঠিকভাবে হয় না, যার ফলে অন্যান্য অঙ্গও অসুস্থ হতে শুরু করে।
কিডনিতে যে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তা হলো পাথর জমা। বর্তমানে কিডনিতে পাথর আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই এই রোগের লক্ষণগুলি সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরি।
যেসব লক্ষণে বুঝবেন কিডনিতে পাথর জমেছে:
১. প্রস্রাবের বর্ণ লাল হলে: যদি আপনার প্রস্রাবের রং হঠাৎ করে লালচে হয়ে যায়, তবে এটি কিডনিতে পাথর জমার একটি লক্ষণ হতে পারে।
২. সারাক্ষণ বমি বমি ভাব বা বমি হলে: কিডনিতে পাথর হলে অনেক সময় বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. কোমরের পেছন দিকে তীব্র ব্যথা হলে: কিডনিতে পাথর জমার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো কোমরের পেছন দিকে তীব্র ব্যথা অনুভব করা। যদিও এই ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তবে ব্যথা বাড়লে তা কিডনির অবস্থান থেকে তলপেটেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কিডনিতে পাথর জমা বা তৈরির সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে চিহ্নিত করা যায়নি। তবে চিকিৎসকরা কিছু বিষয়কে কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ হিসেবে মনে করেন:
কিডনিতে পাথর জমার কারণ:
১. পর্যাপ্ত জলের অভাব: শরীরে জলের পরিমাণ কম থাকলে কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি বাড়ে।
২. বারবার কিডনিতে সংক্রমণ: কিডনিতে বারবার সংক্রমণ হলে এবং তার সঠিক চিকিৎসা না করালে পাথর তৈরি হতে পারে।
৩. মাত্রাতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় খাবার গ্রহণ: অতিরিক্ত পরিমাণে পনির, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে কিডনিতে পাথর জমার সম্ভাবনা বাড়ে।
৪. শরীরে ক্যালসিয়ামের আধিক্য: শরীরে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে কিডনিতে পাথর জমতে পারে।
আপনার কিডনি সুস্থ রাখতে যা করবেন:
১. পর্যাপ্ত জল পান করুন: কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি কমাতে হলে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা উচিত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল পান করাও কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
২. প্রস্রাব চেপে রাখবেন না: দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখা একেবারেই উচিত নয়। যখনই বেগ আসবে, তখনই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া উচিত।
৩. বারবার প্রস্রাবের প্রবণতায় সাবধান: তবে যদি বারবার প্রস্রাবের জন্য যেতে হয়, তবে এটি একটি বড় সমস্যা হতে পারে। এমন অভ্যাস হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং কিডনিতে সংক্রমণ ঘটেছে কিনা তা পরীক্ষা করানো উচিত।
৪. ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত খাবার খান: প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত খাবার, যেমন আমলকী ও লেবুর জুস প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে কিডনির সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।
৫. অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার পরিহার করুন: অতিরিক্ত মাত্রায় দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া উচিত নয়।
আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখতে এই নিয়মগুলি মেনে চলুন এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।