কলা খাওয়ার পর খোসাটা কি সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দেন? জানেন কি, এই ফেলনা খোসারও রয়েছে অসাধারণ কিছু গুণাগুণ? একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কলার খোসায় লুটেইন, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ক্যারোটিনয়েডের মতো উপকারী উপাদান ভরপুর। এছাড়াও এতে ভিটামিন এ, বি, সি, ই, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও বিদ্যমান। তাই এবার থেকে কলার খোসা ফেলার আগে দুবার ভাবুন!
আসুন, জেনে নেওয়া যাক কলার খোসার ৫টি চমকপ্রদ ব্যবহার:
১. ব্রণ ও বলিরেখা কমাতে ম্যাজিক:
ব্রণের সমস্যায় জেরবার? কলার খোসা হতে পারে আপনার ত্রাতা। কলার খোসা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। পরিষ্কার মুখে খোসার ভেতরের অংশ হালকা হাতে ঘষতে থাকুন। খোসা কালো হয়ে গেলে নতুন টুকরো নিন। এভাবে পুরো মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। নিয়মিত ব্যবহারে পুরোনো ব্রণের দাগ যেমন হালকা হবে, তেমনই মুক্তি মিলবে ত্বকের বলিরেখা থেকেও।
২. বাগানের সেরা সার:
আপনার শখের বাগান বা ব্যালকনির গাছের পরিচর্যায় কলার খোসা হতে পারে এক দারুণ সার। এটি ব্যবহারের দুটি সহজ উপায় রয়েছে। প্রথমত, কলার খোসা ছোট টুকরা করে একটি বোতলে জলের সঙ্গে ভিজিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন বোতলটি যেন সরাসরি রোদে না থাকে এবং মুখ বন্ধ থাকে। ২-৩ দিন পর ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে সমপরিমাণ জল মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিন। দ্বিতীয়ত, কলার খোসা শুকিয়ে নিয়ে তা গুঁড়ো করে সরাসরি গাছের মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারেন। এটি গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে।
৩. দাঁতের হলদে দাগ দূর করে:
ঠিকমতো ব্রাশ না করা বা অন্যান্য কারণে দাঁতে হলদে ছোপ পড়লে কলার খোসা হতে পারে আপনার সমাধান। সকালে ব্রাশ করার পর কলার খোসার ভেতরের অংশ দাঁতে ঘষুন। ১০ মিনিট রেখে আঙুল দিয়ে হালকাভাবে ডলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহখানেক এভাবে নিয়মিত করলে দেখবেন আপনার দাঁত আগের চেয়ে অনেক সাদা হয়ে গেছে।
৪. ফাটা গোড়ালির যত্নে ও জুতা পালিশে:
পায়ের ফাটা গোড়ালি সারাতে কলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন। শুধু তাই নয়, এটি দিয়ে আপনার চামড়ার জুতাও পালিশ করে নেওয়া সম্ভব! কলার খোসার ভেতরের দিক দিয়ে ফাটা গোড়ালিতে ঘষুন অথবা জুতার উপর ঘষে নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিন। এটি একদিকে যেমন গোড়ালিকে মসৃণ করবে, তেমনই জুতার ঔজ্জ্বল্য বাড়াতেও সাহায্য করবে।
৫. আঁচিল থেকে মুক্তি:
আঁচিলের সমস্যায় ভুগছেন? কলার খোসা হতে পারে আপনার ঘরোয়া সমাধান। কলার খোসার ভেতরের দিকটি আঁচিলের উপর বসিয়ে টেপ দিয়ে আটকে দিন। এভাবে পরপর কয়েকদিন করলে আঁচিল ধীরে ধীরে শুকিয়ে পড়ে যাবে।
তাহলে দেখলেন তো, সামান্য কলার খোসাও কত উপকারে লাগতে পারে! এবার থেকে কলা খাওয়ার পর খোসাটিকে আর অবহেলা করে ছুঁড়ে ফেলবেন না। বরং কাজে লাগিয়ে দেখুন, উপকার পাবেন নিশ্চিত।