কন্ডিশনার ব্যবহার করেও চুল রুক্ষ? এই ৬টি ভুল শুধরে নিন, পান সিল্কি ও চকচকে চুল!
মসৃণ, চকচকে ও আকর্ষণীয় চুলের আকাঙ্ক্ষায় অনেক নারীই নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু ভালো মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করার পরেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় অনেকে হতাশ হন। এর কারণ হলো— কন্ডিশনার ব্যবহারের পদ্ধতিতেই কোথাও ভুল থেকে যাচ্ছে।
আপনার চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে কন্ডিশনার ব্যবহারের এই ৬টি সঠিক নিয়ম:
১. শ্যাম্পুর অবশিষ্টাংশ দূর করুন (নো শ্যাম্পু রেসিডিউ!)
কন্ডিশনার চুলে লাগানোর আগে নিশ্চিত হোন যে আপনার চুলে কোনো শ্যাম্পু অবশিষ্ট নেই। শ্যাম্পু করার পর চুল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। শ্যাম্পুর শেষ ফেনা পর্যন্ত চুল থেকে সরে গেলে তবেই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে কন্ডিশনার চুলের গভীরে প্রবেশ করতে পারে না এবং আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না।
২. পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করুন (কমই বেশি)
অনেকেই মনে করেন বেশি পরিমাণে কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল আরও মসৃণ হবে। এটি একটি ভুল ধারণা। অতিরিক্ত কন্ডিশনার চুলের গোড়ায় জমে চুলের ক্ষতি করতে পারে।
পদ্ধতি: ছোট একটি মুদ্রার আকারের কন্ডিশনার হাতের তালুতে নিন। এরপর দুই হাতের তালুতে ভালোভাবে ঘষে নিন এবং সবশেষে আঙুল দিয়ে চুলের মধ্যে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন।
৩. আগা থেকে শুরু করে মাখিয়ে নিন (আগা হলো প্রধান লক্ষ্য)
কন্ডিশনার সবসময় চুলের আগা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে উপরের দিকে মাখিয়ে নিন। চুলের আগা সাধারণত বেশি রুক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত থাকে, তাই সেখানে ভালোভাবে কন্ডিশনার লাগানো সবচেয়ে জরুরি।
৪. মাথার ত্বকে একদমই নয় (স্ক্যাল্প এড়িয়ে চলুন)
মনে রাখবেন, কন্ডিশনার শুধুমাত্র চুলের জন্য, মাথার ত্বকের জন্য নয়। তাই মাথার স্কাল্পে যেন কন্ডিশনার না লেগে যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। মাথার ত্বকে কন্ডিশনার লাগালে তা চুলের গোড়া দুর্বল করে এবং চুল পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
৫. যথেষ্ট সময় দিন (কমপক্ষে ২ মিনিট)
অনেকেই কন্ডিশনার লাগানোর সঙ্গে সঙ্গেই ধুয়ে ফেলেন, যার ফলে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যায় না। চুলে কন্ডিশনার মাখানোর পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। কন্ডিশনারকে তার কাজ করার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া জরুরি। সাধারণত ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করাই যথেষ্ট।
৬. ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন (জেল্লার আসল রহস্য)
সবশেষে ঠান্ডা জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। যতক্ষণ না আপনার মনে হচ্ছে চুল থেকে সম্পূর্ণ কন্ডিশনার বেরিয়ে গেছে এবং আপনি একটি সিল্কি, মসৃণ ও চকচকে ভাব অনুভব করছেন, ততক্ষণ ধুতে থাকুন। ঠান্ডা জল চুলের কিউটিকল বন্ধ করতে সাহায্য করে, যা চুলকে আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে।
এই সঠিক নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি অবশ্যই আপনার চুলের কাঙ্ক্ষিত মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা ফিরে পাবেন।





