ওজন বাড়ার আশঙ্কায় অনেকেই ডিমকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেন। কেউ আবার শুধু ডিমের সাদা অংশ খান, কুসুমের দিকে ফিরেও তাকান না! অথচ শরীরের নানা প্রয়োজনে ডিম অপরিহার্য। অবাক করার বিষয় হলো, সঠিক পদ্ধতিতে ডিম খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেই বিশেষ পদ্ধতিগুলো:
১. ডিম ও নারকেল তেল:
নারকেল তেল আমাদের শরীরের বিপাকক্রিয়াকে দ্রুত করতে সাহায্য করে। তাই সাধারণ তেল বা মাখনের পরিবর্তে নারকেল তেল দিয়ে ডিমের ওমলেট তৈরি করে দেখুন। এটি একদিকে যেমন সুস্বাদু হবে, তেমনই ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। তবে অবশ্যই খাঁটি এবং ভোজন উপযোগী নারকেল তেল ব্যবহার করুন। কেমিক্যাল যুক্ত তেল এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. ডিম ও ওটমিল:
ডিম এবং ওটমিলের যুগলবন্দী ওজন কমানোর জন্য এক দারুণ উপায় হতে পারে। ওটমিল ধীরে ধীরে হজম হয়, ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং খিদে কম লাগে। এটি পাচক রস ক্ষরণের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণে বাধা দেয়। ডিমের প্রোটিন এবং ওটমিলের ফাইবার একসঙ্গে খেলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা ওজন কমাতে সহায়ক।
৩. ডিম ও পালং শাক:
ডিমের সাথে পালং শাক মিশিয়ে খান। পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। পালং শাক খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং সহজে ক্ষুধা লাগে না। তাই ডিমের পুষ্টিগুণ এবং পালং শাকের ফাইবার—এই দুটি উপাদান যখন একসাথে শরীরে যায়, তখন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়। ডিমের অমলেটের সাথে পালং শাক ভাজি অথবা ডিমের তরকারিতে পালং শাক যোগ করে দেখতে পারেন।
সুতরাং, ওজন কমানোর জন্য ডিমকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং সঠিক উপায়ে এবং সঠিক খাবারের সাথে ডিম যোগ করে আপনি আপনার ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে পারেন। তবে যেকোনো ডায়েট পরিবর্তনের আগে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ।