বর্তমানে গ্লুটাথিয়ন শব্দটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। একে বলা হয় ‘মাস্টার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’। এটি কেবল আমাদের শরীরের টক্সিনই বের করে না, বরং ত্বকের মেলানিন কমিয়ে ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও দাগমুক্ত করে তোলে। কিন্তু দামী ক্লিনিক বা সাপ্লিমেন্টের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করার আগে জেনে নিন, আমাদের হাতের কাছে থাকা কিছু খাবার দিয়েই শরীরে এই উপাদানের মাত্রা বাড়ানো সম্ভব।
কী এই গ্লুটাথিয়ন এবং এটি কেন জরুরি?
গ্লুটাথিয়ন হলো তিনটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রোটিন। এটি লিভার পরিষ্কার রাখে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। যখন লিভার সুস্থ থাকে, তার প্রতিফলন সরাসরি ত্বকের উজ্জ্বলতায় ধরা পড়ে।
গ্লুটাথিয়ন বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে যে খাবারগুলো:
সালফার সমৃদ্ধ সবজি: রসুন, পেঁয়াজ এবং ব্রকোলি, ফুলকপি বা বাঁধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে। এই সালফার শরীরে প্রাকৃতিক উপায়ে গ্লুটাথিয়ন তৈরি করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
ভিটামিন সি যুক্ত ফল: লেবু, কমলালেবু, আমলকী বা পেঁপে সরাসরি গ্লুটাথিয়ন না দিলেও, এটি গ্লুটাথিয়নকে পুনরায় সক্রিয় (Regenerate) করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি ছাড়া এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কাজ করতে পারে না।
অ্যাভোকাডো ও পালং শাক: এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে লিউটাইন এবং গ্লুটাথিয়ন থাকে। নিয়মিত পালং শাকের রস বা অ্যাভোকাডো খেলে ত্বকের কালচে ভাব দ্রুত দূর হয়।
ডিম ও চর্বিহীন মাংস: প্রোটিনের এই উৎসগুলোতে থাকা ‘সিস্টিন’ নামক অ্যামিনো অ্যাসিড গ্লুটাথিয়ন তৈরির মূল কাঁচামাল।
হলুদ: হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ উপাদানটি লিভারে গ্লুটাথিয়নের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। রাতে শোওয়ার আগে এক গ্লাস দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
কেবল খাবার খেলেই হবে না, গ্লুটাথিয়ন লেভেল ধরে রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম এবং মদ্যপান বর্জন করা জরুরি। কারণ লিভারে অতিরিক্ত চাপ পড়লে শরীরের জমানো গ্লুটাথিয়ন দ্রুত খরচ হয়ে যায়।