একেকটা ভোর একেকটা নতুন দিনের স্বপ্ন দেখায়। আপনি যদি ‘সকাল বেলার পাখি’ হন, তবে এই কথা আপনার জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু যাঁরা রাত জাগা পেঁচা, অর্থাৎ যাঁদের দেরিতে ওঠার অভ্যাস, তাঁদেরও উপায় আছে। তবে কষ্ট করে কটা দিন মানতে হবে কিছু সহজ নিয়ম। তাহলেই সকালে ওঠার অভ্যাস হয়ে যাবে। আর সকালে উঠে চাঙ্গা থাকারও রয়েছে দারুণ কিছু পন্থা।
⏰ ঘুম ভাঙানোর বিজ্ঞান-সম্মত পদ্ধতি
১. ছন্দময় অ্যালার্মের ব্যবহার: সকালে ওঠার জন্য কর্কশ বা জোড়ালো শব্দের অ্যালার্মের চাইতে ছন্দময় অ্যালার্ম ঘুম ভালোভাবে ভাঙাতে বেশি সাহায্য করে।
-
গবেষণা: মেলবোর্নের ‘আরএমআইটি’ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুসারে, জোড়ালো শব্দে ঘুম ভাঙলে এক ধরনের ক্লান্তি ভর করে শরীরে। এর বদলে পপ সঙ্গীত, ছন্দময় যন্ত্রসঙ্গীত অথবা প্রকৃতির শব্দ (যেমন পাখির কলকাকলি) সুন্দরভাবে ঘুম ভাঙাতে সাহায্য করে এবং শরীরে জড়তা আসতে দেয় না।
২. প্রাকৃতিক আলো আসুক: প্রাকৃতিক আলো সকালের রুটিনে দারুণ প্রভাব ফেলে। সূর্যের আলো দেহঘড়িকে (Body Clock) আলোড়িত করতে পারে, যা সকালে ঘুম থেকে ওঠার সংকেত দেয়।
-
উপকার: দিনের আলো শুধু ঘুমই ভাঙায় না, সকালের আলো গায়ে মাখলে তা সন্ধ্যার পর তাড়াতাড়ি ঘুমানোর সংকেত হিসেবেও কাজ করে। তাই সকালে উঠে পর্দা সরিয়ে ঘরে আলো আসতে দিন এবং বুক ভরে নির্মল বাতাস নিন।
৩. মুখ ধোয়ার অভ্যাস: ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে গড়িমসি না করে কুসুম গরম বা ঠাণ্ডা জল দিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে নিতে হবে। যা কিনা শরীরের জড়তা কাটানোর পাশাপাশি চোখের ক্লান্তিও দূর করবে এবং সতেজ অনুভব আনবে।
🍳 সারাদিন চাঙ্গা থাকার জন্য ৩টি জরুরি অভ্যাস
৪. পুষ্টিকর নাস্তা অপরিহার্য: সকালে অভুক্ত থাকলে দুর্বল লাগবেই। তাই নাস্তার জন্য বেছে নিতে হবে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার।
-
খাবার: নাস্তার জন্য ফল, সবজি, লাল আটার রুটি, ডিম ও সাধারণ টক দই বেছে নিন।
-
আর্দ্রতা: চা বা কফি পান করা ভালো। তবে ধীরে ধীরে অন্তত দু গ্লাস জল সকালে নাস্তায় গ্রহণ করার অভ্যাস করা উচিত।
৫. শরীর নাড়াচাড়া করা: ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়তে পারলে ভালো। না হলে অন্তত ‘স্ট্রেচিং’ করা উচিত। হাত-পা টানটান করার মাধ্যমে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। ফলে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছায় এবং শরীরে জড়তা কাটিয়ে চাঙ্গা অনুভব আসে।
৬. ঘরের টুকটাক কাজ করা: সকালে উঠে কাজ করতে ভালো না লাগলেও, ঘরের টুকটাক কাজ করার চেষ্টা করতে হবে। যেমন—নিজের বিছানাটা গোছানো, নাস্তার থালাবাটি ধোয়া ও গুছিয়ে রাখা ইত্যাদি। এই কাজগুলো মানসিক প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে।
🧠 মনকে চাঙ্গা রাখার কৌশল
৭. সারাদিনের কাজের তালিকা তৈরি: দিনের বিভিন্ন সময় কী কী কাজ বাকি আছে, সেগুলোর একটা তালিকা সকালেই তৈরির অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। এতে মস্তিষ্ককে একটু খাটানো যায় এবং কাজগুলো ঠিক মতো করার পাশাপাশি পরের দিনের কাজও গুছিয়ে ফেলা যায়।
৮. আনন্দদায়ক কিছু করা: প্রতিদিন সকালে উঠেই যে ফলদায়ক কিছু করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। সকালে তাই নিজের পছন্দসই কাজগুলোও করা যেতে পারে, যেমন—গেইম খেলা, প্রিয় সিরিয়াল দেখা, গান শোনা, বই পড়া ইত্যাদি। এই মজাগুলো দিনের প্রথমভাগে করলে, রাত জাগার অভ্যাস অনেকটাই কমে আসবে।
৯. প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ: সকালে উঠে বন্ধু, আত্মীয় বা প্রিয় মানুষের সঙ্গে সাধারণ শুভেচ্ছা বিনিময় দিয়ে দিনের শুরু করাটা অন্য মাত্রা দেবে এবং সকালটা আরও অর্থবহ করে তুলবে।
আসল কথা হলো: সুন্দর সকালের জন্য চাই সুন্দর রাতের রুটিন। আর সেটার প্রথম ধাপই হল তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া।