আসলে চকচক করলেই সোনা হয় না। অ্যালুমিনিয়ামের বাসনকোসন দেখতে যতোই আকর্ষণীয় হোক, আদতে তা বিপদ ডেকে আনে। অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র খুব দ্রুত গরম হয়ে যায়। অম্লীয় শাক-সবজি এবং খাবারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে।
তাই রান্নায় এই ধরনের পাত্র ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অ্যালুমিনিয়ামের প্যানে রান্নার সময় ধাতুর প্রায় এক থেকে দুই মিলিগ্রাম অজান্তেই খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এ থেকে ডিমনেশিয়া, অ্যালজাইমার্স এমনকি কিডনি ফেলিওরের মতো রোগের ঝুঁকি থাকে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিগ্রাম অ্যালুমিনিয়াম খাবার বা পানীয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু এর বেশি হলে সেটা শরীরের জন্য বিপজ্জনক।
মস্তিষ্কের টিস্যুকে প্রভাবিত করে
সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করলে অ্যালজাইমার্স রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অ্যালজাইমার্স, পার্কিনসন এবং ডিমনেসিয়া আক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কের টিস্যুতে বর্ধিত মাত্রায় অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া গিয়েছে। তবে, এই বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন। অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা খাবার খেয়ে ঘন ঘন মাথাব্যথা হতেও দেখা গিয়েছে।
অ্যাসিডিক সম্ভাবনা
অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করলে ভিনিগার, টমেটো এমনকি চুনের মতো অ্যাসিডিক খাবারের সঙ্গে বিক্রিয়া হয়। এর ফলে খাবারে অ্যালুমিনিয়াম আয়নগুলো দ্রবীভূত হয়ে যায়। এর ফলে স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।
ক্যান্সারের সম্ভাবনা
এই দাবির পিছনে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে অনেকেই মনে করেন, অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে রান্না করা খাবার শরীরে বিষাক্ততা বাড়ায়। এর ফলে ক্যান্সার কোষের বিকাশ ঘটে।
কিডনির সমস্যা
গবেষণায় প্রমাণিত, শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালুমিনিয়াম গেলে কিডনির সমস্যা হতে পারে। অত্যধিক অ্যালুমিনিয়াম শরীরে বিষাক্ততা সৃষ্টি করে। যার ফলে কিডনি ফেলিওর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।