ফাগুনের শেষেই রোদের তেজ জানান দিচ্ছে—গরম আসন্ন। তীব্র গরমে একটু স্বস্তির খোঁজে ঘরে ঘরে এখন এসি চালানোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। কিন্তু মনে রাখবেন, দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর যান্ত্রিক পরীক্ষা না করেই এসি চালু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সামান্য অবহেলায় আপনার সাধের এসি নিমেষেই ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিককালে এসি বিস্ফোরণের একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, এর রক্ষণাবেক্ষণ কতটা জরুরি।
বিস্ফোরণ এড়াতে এবং এসি নিরাপদ রাখতে বিশেষজ্ঞরা নিচের বিষয়গুলোতে নজর দিতে বলছেন:
১. ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার কি আছে? এসি চালানোর আগে সবার আগে নিশ্চিত করুন একটি ভালো মানের ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভোল্টেজ ওঠানামা করে, সেখানে স্ট্যাবিলাইজার ছাড়া এসি চালানো কার্যত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটি যন্ত্রটিকে সুরক্ষিত রাখে এবং অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক চাপের ঝুঁকি কমায়।
২. পেশাদার টেকনিশিয়ান দিয়ে সার্ভিসিং: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এসির ভেতরে ধুলোবালি ও ময়লা জমে থাকে। এই অবস্থায় সার্ভিসিং ছাড়া এসি চালালে কম্প্রেসরের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে, যা বিস্ফোরণের অন্যতম কারণ। ময়লা ফিল্টার আর জ্যাম হয়ে থাকা কয়েল কেবল বিদ্যুৎ বিলই বাড়ায় না, এটি যান্ত্রিক গোলযোগের প্রধান উৎস।
৩. বৈদ্যুতিক তার ও ওয়্যারিং পরীক্ষা: বিস্ফোরণ এড়াতে তারের সংযোগের দিকে কড়া নজর দিন। অনেক সময় দীর্ঘ বিরতির সুযোগে ইঁদুর এসির ভেতরের তার কেটে ফেলে। ক্ষতিগ্রস্ত বা আলগা তার থেকে শর্ট-সার্কিট হয়ে ভয়াবহ আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে। তাই ইনডোর ও আউটডোর ইউনিটের প্রতিটি সংযোগস্থল একবার পরীক্ষা করে নিন।
৪. আউটডোর ইউনিটের অবস্থান: এসির আউটডোর ইউনিটটি এমন স্থানে রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ আছে। অনেক সময় বারান্দার সংকীর্ণ কোণে বা সরাসরি কড়া রোদে ইউনিটটি থাকলে তা অতিরিক্ত গরম হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।