৩৫ দিনের বেশি পিরিয়ড না হলে বিপদ! কখন বুঝবেন দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি?

পিরিয়ডের সাইকেলে সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই প্রচলিত সমস্যা। কোনো মাসে সময়ের আগেই পিরিয়ড শুরু হয়, আবার কোনো মাসে সময় পার হয়ে গেলেও দেখা মেলে না। শারীরিক, মানসিক ও পারিপার্শ্বিক নানান কারণেই নির্দিষ্ট সময়ের কয়েকদিন আগে অথবা পরে পিরিয়ড হতে পারে।
কখন দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন? (বিপজ্জনক লক্ষণ)
অনিয়মিত পিরিয়ডের সঙ্গে যদি নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক:
পেট ব্যথা সহ বেশি রক্তপাত ও ব্লাড ক্লটের সমস্যা।
২-৩ পিরিয়ড ধরে পিরিয়ডের স্থায়িত্বকাল এক সপ্তাহের অধিক সময় অথবা ২-৩ দিন থাকা।
২-৩ পিরিয়ড ধরে ২০ দিনের মাঝেই পিরিয়ড দেখা দেওয়া।
৩৫ দিনের অধিক সময় পর্যন্ত পিরিয়ড না হওয়া।
কেন অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দেয়?
সাধারণত কিছু বিশেষ শারীরিক সমস্যার জন্য পিরিয়ডের স্বাভাবিক প্যাটার্নে সমস্যা দেখা দেয়, যেমন:
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত শারীরিক চাপ।
ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ইনফেকশন (UTI)।
থাইরয়েড ডিসঅর্ডার।
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS)।
লং-টার্ম হরমোনাল মেডিকেশন।
মেনোপজ।
অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় উপকারী খাদ্য উপাদান:
পরিমিত এক্সারসাইজ ও স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া চালু রাখতে সাহায্য করে। অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা দূর করতে পারে এমন ৬টি খাদ্য উপাদান নিচে দেওয়া হলো:
১. তিলের বীজ:
উপকারিতা: এটি দেরিতে পিরিয়ড হওয়ার সমস্যা দূর করে এবং তলপেটের ব্যথা কমায়।
পদ্ধতি: এক কাপ জলে এক চা চামচ তিলের বীজ মিশিয়ে উচ্চতাপে ফুটিয়ে ১/৪ কাপ জলে আনতে হবে। আধা চা চামচ গুঁড়ের সঙ্গে এই পানীয় মিশিয়ে পান করতে হবে।
২. আমলকী:
উপকারিতা: ভিটামিন-সি তে পরিপূর্ণ এই ফলের রস মাত্রাতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা কমায়। এছাড়া পিরিয়ডের ফলে মাথা ঘোরাভাব ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যাও প্রতিহত করে।
পদ্ধতি: ৫-৬টি বড় সাইজের আমলকীর রসের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে হবে।
৩. দই ও মধুর পানীয়:
উপকারিতা: অতিরিক্ত রক্তপাতের সঙ্গে প্রচন্ড পেটেব্যথা কমাতে এই পানীয় অত্যন্ত উপকারী।
পদ্ধতি: দুই টেবিল চামচ দই, এক চা চামচ মধু ও স্বাদের জন্য এক চিমটি লবণ মিশিয়ে অল্প জল যোগ করে পানীয়টি তৈরি করে পান করতে হবে।
৪. পুদিনা ও ধনিয়া পাতার চাটনি:
উপকারিতা: এই মিশ্রণ হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং পিরিয়ডের সময়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি: লবণ, বিটলবণ, আদা, রসুন, কাঁচামরিচের সঙ্গে পুদিনা ও ধনিয়া পাতা মিশিয়ে চাটনি তৈরি করে প্রতিদিন খেতে হবে।
৫. উপকারী সবজী:
অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা ও উপসর্গ কমাতে এই সবজিগুলো খাওয়া প্রয়োজন: গাজর, বিটরুট, ব্রকলি, পালং শাক।
৬. উপকারী ফল:
এই ফলগুলো পিরিয়ডের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো: কাঁচা পেঁপে, আপেল ও আনারস।