হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে পর্যাপ্ত জল পান জরুরি, তবে কোন পাত্রে?

গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীরকে সতেজ রাখতে এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ লিটার জল পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কাজের প্রয়োজনে দিনের বেলায় অনেককেই রোদের মধ্যে বাইরে বেরোতে হয়। বাড়িতে থাকলে যতটা জল পান করা যায়, বাইরে বা অফিসে সেই পরিমাণ জল খাওয়া অনেক সময়ই সম্ভব হয় না। তাই চিকিৎসকেরা সবসময়ই সঙ্গে একটি জলের বোতল রাখার কথা বলেন।

অনেকের কাছেই নিজস্ব জলের বোতল থাকে। কেউ কাচের বোতলে জল পান করেন, আবার কেউ দীর্ঘক্ষণ জল ঠান্ডা রাখার জন্য স্টীলের জার পছন্দ করেন। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোন বোতলটি বেশি উপকারী, তা নিয়ে একটি আলোচনা প্রায়ই শোনা যায়।

এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টীলের বোতলের চেয়ে কাচের বোতল শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী। তাদের মতে, কাচ একটি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এবং এটি পরিবেশবান্ধব। ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি ছাড়া কাচের বোতল নিঃসন্দেহে ব্যবহারের জন্য ভালো। কাচের বোতলে জল পান করলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি স্টীলের বোতলের অতিরিক্ত ব্যবহার স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দীর্ঘক্ষণ জলের সংস্পর্শে থাকার ফলে স্টীল ক্ষয় হতে পারে এবং সেই ক্ষয়ে যাওয়া ধাতুর কণা জলের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এই কারণে স্টীলের বোতল কেনার আগে সেটির গুণমান এবং উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত, বোতলটি যেন প্লাস্টিক বর্জিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কিছু স্টীলের বোতলের কিছু অংশ প্লাস্টিকের তৈরি হয়ে থাকে এবং এই ধরনের পাত্র থেকে জল পান করা আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পর্যাপ্ত জল পান যেমন জরুরি, তেমনই জল পানের জন্য সঠিক পাত্র নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই যারা স্বাস্থ্য সচেতন, তারা জলের বোতল কেনার সময় উপাদান এবং গুণমানের দিকে অবশ্যই নজর রাখবেন।