হাঁচি পেলে আমরা প্রায় সবাই অস্বস্তি বোধ করি এবং সঙ্গে সঙ্গেই নাক-মুখ ঢেকে ফেলি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, হাঁচির সময় নাক ও মুখ সম্পূর্ণভাবে চেপে ধরাটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এটি আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ অভ্যাস মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
সাধারণত, হাঁচি বা কাশির সময় অন্যদের মধ্যে জীবাণু ছড়ানো রোধ করতে নাক-মুখ ঢেকে নিতে বলা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, আপনি পুরোপুরি নাক-মুখ চেপে ধরবেন। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, হাঁচির সময় মুখের ভেতরে বাতাস প্রায় ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে বাইরে আসে। এই উচ্চচাপের বাতাস যদি নাক-মুখ চেপে ধরে আটকে রাখা হয়, তাহলে তা শরীরের ভেতরের বিভিন্ন সংবেদনশীল অংশে ধাক্কা খায়।
কানের পর্দা থেকে ফুসফুস, ঝুঁকির মুখে একাধিক অঙ্গ
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁচির সময় মুখ ও নাক চেপে ধরলে ওই প্রচণ্ড বেগের বাতাস গিয়ে সরাসরি কানের পর্দায় ধাক্কা মারে। এর ফলে মুহূর্তেই কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটতে পারে, যা স্থায়ী বধিরতার কারণ হতে পারে। শুধু কানই নয়, এই অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে খাদ্যনালী এবং ফুসফুসও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মস্তিষ্কে রক্তপাতের ঝুঁকি: এক প্রাণঘাতী পরিণতি
গবেষণায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গেছে, হাঁচি ধরে রাখার ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাপে মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম (রক্তনালীর অস্বাভাবিক স্ফীতি) ফেটে যেতে পারে। এটি একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী অবস্থা, যা মস্তিষ্কে রক্তপাতের কারণ হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রোগীর জীবনহানিও ঘটতে পারে।
সঠিক অভ্যাস: রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করুন, কিন্তু চেপে ধরবেন না
অতএব, চিকিৎসকরা দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, কখনও হাঁচির সময় নাক ও মুখ পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়। এর পরিবর্তে, যদি একটি রুমাল বা টিস্যু দিয়ে হালকাভাবে নাক-মুখ ঢেকে রাখা হয়, তাহলে কোনো ভয় থাকে না। এতে ভেতরের বাতাস একটি নির্দিষ্ট পথে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশে কোনো ক্ষতিকর চাপ সৃষ্টি হয় না। পাশাপাশি, এটি মুখের ভেতরের জীবাণু বাইরে ছড়িয়ে পড়াও রোধ করে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাই, নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন হোন এবং হাঁচির সময় নাক-মুখ পুরোপুরি চেপে ধরার অভ্যাস পরিহার করুন।





