রোগা জিরো সাইজের চেয়ে গোলগাল মহিলাদের প্রতি বাঙালি পুরুষদের একটা আলাদা দুর্বলতা আছে, এমন ধারণা প্রচলিত। খাদ্যরসিক এই পুরুষরা নাকি নিজেরাও যেমন খেতে ভালোবাসেন, তেমনই তাদের পছন্দের সঙ্গিনীও রসনা তৃপ্তির ব্যাপারে যত্নশীল হন।
তবে সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে প্রকাশিত একটি নতুন সমীক্ষা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো তথ্য সামনে এনেছে। সমীক্ষাটি বলছে, মধ্যবয়সি পুরুষদের স্ত্রী যদি স্থূলকায় হন, তাহলে সেই পুরুষদের টাইপ-টু ডায়বেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। যাদের স্ত্রীর চেহারা ছিপছিপে, তাদের তুলনায় এই সম্ভাবনা অনেকটাই কম।
গবেষকরা এর কারণ হিসেবে বলছেন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চার অভাবের কারণে ওজন বাড়ে ও শরীরে মেদ জমে। স্ত্রীর যদি এই ধরনের জীবনযাপন থাকে, তাহলে তার প্রভাব স্বামীর উপরও পড়ে। একসঙ্গে থাকতে থাকতে একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস তৈরি হয়। স্বামীও স্ত্রীর প্রভাবে খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম করতে শুরু করেন।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, স্বামী মোটা হলে কি স্ত্রীদের উপরও একই প্রভাব পড়ে? সমীক্ষা অনুযায়ী, পুরুষরা তাদের স্ত্রীর দ্বারা যতটা প্রভাবিত হন, স্ত্রীরা ততটা স্বামীর দ্বারা প্রভাবিত হন না। এর প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত বেশিরভাগ পরিবারে হেঁশেলের দায়িত্ব স্ত্রীদের হাতেই থাকে। কখন কী রান্না হবে, কতটা তেল-মশলা ব্যবহার করা হবে, তা মূলত তাদের তত্ত্বাবধানেই হয়। আর সেই কারণেই স্বাভাবিকভাবেই পুরুষদের শরীরে মেদ জমার প্রবণতা বাড়ে এবং ডায়বেটিসের ঝুঁকিও বাড়ে।
এই সমীক্ষার ফলাফল নিঃসন্দেহে অনেক পুরুষকেই চিন্তায় ফেলবে। তাই যদি আপনার স্ত্রী স্থূলকায় হন, তাহলে শুধু তার স্বাস্থ্য নয়, নিজের স্বাস্থ্য নিয়েও এখনই সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। কারণ আপনার জীবনসঙ্গীর স্বাস্থ্য আপনার জীবনের উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
Canvas