বাদাম আমাদের শরীরের জন্য উপকারী, একথা প্রায় সকলেরই জানা। পুষ্টিবিদরাও প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেকেই ভাজাপোড়া বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে হালকা নাস্তা হিসেবে বাদামকে বেছে নেন, যা পুষ্টি জোগায় এবং ক্ষুধা নিবারণ করে। বই পড়তে পড়তে বা সিনেমা দেখতে দেখতে বাদাম খাওয়া এক নিত্যদিনের অভ্যাস অনেকের।
বাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যেমন মনোস্যাচুরেটেড এবং পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, এবং প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। এসব উপাদান হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। প্রোটিন ও ম্যাগনেসিয়ামেরও অন্যতম উৎস বাদাম। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে বাদাম খেলে তা শরীরের জন্য সত্যিই ভালো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আপনি যদি অতিরিক্ত বাদাম খান তখন কী হতে পারে? কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়—বাদামের ক্ষেত্রেও এই কথাটি প্রযোজ্য। জেনে নিন, অতিরিক্ত বাদাম খেলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে:
অতিরিক্ত বাদাম খেলে যেসব বিপদ হতে পারে:
ওজন বাড়াতে পারে: বাদামে উপকারী ফ্যাট থাকে ঠিকই, তবে অতিরিক্ত বাদাম খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এক মুঠো বাদামে প্রায় ১৭০ ক্যালোরি থাকে। ডায়েটারি গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রতিদিন আমাদের শরীরে ১৬০০ থেকে ২৪০০ ক্যালোরি প্রয়োজন হয়। যেখানে আমরা বাদাম খেয়েই যদি এতটা ক্যালোরি গ্রহণ করে থাকি, তাহলে মোট ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ফলে বাড়তে থাকে ওজন।
মিনারেলের শোষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়: অতিরিক্ত বাদাম খেলে তা শরীরে মিনারেল শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। বাদামে উপস্থিত ফাইটিক অ্যাসিড এর জন্য দায়ী। এই অ্যাসিড শরীরে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক এবং ক্যালসিয়াম প্রবেশে বাধা দেয়। এর ফলে অ্যালার্জি, খাদ্যনালিতে জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা: অতিরিক্ত বাদাম খেলে তা উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। বাদামে প্রাকৃতিক সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে, তাই অনেকে খাওয়ার সময় সামান্য লবণ মিশিয়ে খান। এই বাড়তি লবণই আপনার উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। সোডিয়াম রক্তপ্রবাহ থেকে জল এবং ফ্লুইড শোষণ করে নেয়, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়।
প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে: বাদাম অল্পস্বল্প করে খেলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যখন আপনি বেশি বা অতিরিক্ত খাবেন, তখনই সমস্যা দেখা দেবে। বাদামে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রচুর পরিমাণে থাকে, কিন্তু ওমেগা-৩ তুলনামূলকভাবে কম। ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ এর ভারসাম্য ঠিক না থাকলে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
অ্যালার্জির সমস্যা: অ্যালার্জির সমস্যা একেকজনের একেক খাবারের কারণে হতে পারে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাদাম খেলে অ্যালার্জির তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বাদামে অ্যালার্জি থাকলে এটি খাওয়ার পর ত্বকের চুলকানি, শ্বাসকষ্ট এবং ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। মারাত্মক ক্ষেত্রে অ্যানাফিল্যাক্টিক শকের মতো গুরুতর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
তাই, বাদামের উপকারিতা উপভোগ করতে চাইলে তা পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন। সবকিছুর মতো বাদামের ক্ষেত্রেও ‘কমই বেশি’ (less is more) এই নীতিটি মেনে চলা উচিত।