সাদা চালের মোহ ত্যাগ করুন! সুস্থ থাকতে ভরসা রাখুন ঢেঁকিছাঁটা চালে

বাঙালি মানেই ভাত, আর সাদা ধবধবে, পলিশ করা সরু চালের ভাতের প্রতি দুর্বলতা প্রায় সকলেরই। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চালের ভাত খাওয়ার প্রবণতা ব্যাপক। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চকচকে চাল আসলে পুষ্টিগুণে অনেকটাই পিছিয়ে। এমনকি বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবেও পালিশ করা চালের ভাতকে চিহ্নিত করছেন তারা।
একসময় গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে শহরের মানুষও ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত খেতেন। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই অভ্যাস আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। খাদ্যোপযোগী ঢেঁকিছাটা সিদ্ধ চালের প্রতি ১০০ গ্রামে থাকে ১২.৬ গ্রাম জলীয় অংশ, ০.৯ গ্রাম খনিজ, ৩৪৯ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ৮.৫ গ্রাম আমিষ, ০.৬ গ্রাম চর্বি, ৭৭.৪ গ্রাম শর্করা, ১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম লৌহ, ৯ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন, ০.২৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১ এবং ০.১২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২।
অন্যদিকে, বর্তমানে ওবেসিটি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে অনেকেই লো ফ্যাট ডায়েটের দিকে ঝুঁকছেন। শরীরচর্চার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও আনছেন পরিবর্তন। তবে এর ফলে বয়স বাড়লে ক্যালসিয়ামের অভাব, হাড়ক্ষয় ও গাঁটের ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভাত আমাদের শরীরে শর্করা ও আমিষ উভয়েরই যোগান দেয়। কিন্তু পলিশ করা চালের ভাত কম পুষ্টিকর। এর পরিবর্তে ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত খেলে শর্করা ও আমিষ দুটোই পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, এর স্বাদও উন্নত এবং পুষ্টিগুণ থাকে অক্ষুণ্ণ। इसीलिए বিশেষজ্ঞরা ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শস্যদানার আদি ও প্রাকৃতিক রূপই হলো আসল গ্রেন। প্রসেসিং ও পলিশিংয়ের মাধ্যমে চালের উপরের উপকারী অংশটি হারিয়ে যায়, যা শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ। তাই ভাত খাওয়া বাদ না দিয়ে ডায়াবেটিস রোগীরাও ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত খেতে পারেন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রাকে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে।
এছাড়াও, যারা হাঁটু ও কোমরের ব্যথায় ভুগছেন, তাদের জন্য ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে। এর পুষ্টি উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অতএব, সুস্থ জীবন ও পরিপূর্ণ পুষ্টির জন্য সাদা, পলিশ করা চালের মোহ ত্যাগ করে ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাতের দিকে ঝুঁকুন। এটি কেবল আপনার স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো নয়, ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাসেরও পরিচায়ক।