দারুণ সুগন্ধযুক্ত তেজপাতা কেবল রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়াতেই ব্যবহার করা হয় না, এর রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত গুণও। তবে অবাক করার বিষয় হলো, এই পরিচিত মসলাটি রূপচর্চায়ও জাদুর মতো কাজ করতে পারে!
স্বাস্থ্য ও জীবনধারা বিষয়ক এক ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্বক, চুল ও দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে তেজপাতা হতে পারে আপনার গোপন অস্ত্র। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রূপচর্চার ক্ষেত্রে কীভাবে এই সহজলভ্য উপাদানটি ব্যবহার করবেন:
উকুন তাড়াতে: তেজপাতার তীব্র গন্ধ এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য মাথার উকুন দূর করতে অত্যন্ত সহায়ক। উকুন তাড়াতে তেজপাতার গুঁড়ো সরাসরি মাথার তালুতে লাগাতে পারেন। কিছুক্ষণ রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন।
দাঁত পরিষ্কারে: দাঁতকে আরও ঝকঝকে ও পরিষ্কার করতে তেজপাতার গুঁড়ো ব্যবহার করা যেতে পারে। দাঁত যদি হলদেটে হয়ে যায়, তাহলে আপনার নিয়মিত টুথপেস্টের সঙ্গে সামান্য তেজপাতা বাটা মিশিয়ে দাঁত মাজুন। নিয়মিত ব্যবহারে উপকার পাবেন।
ব্রণ নিরাময়ে: ব্রণ একটি সাধারণ ত্বকের সমস্যা, যা নিরাময়ে তেজপাতা সাহায্য করতে পারে। শুকনো তেজপাতা গুঁড়ো করে গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট ব্রণের উপর লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন, তারপর ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এছাড়াও, কয়েকটি তেজপাতা জলে ফুটিয়ে নিন এবং ১০ মিনিট পর জল ছেঁকে ঠান্ডা করুন। এই জল দিয়ে নিয়মিত মুখ ধুলে মুখের ব্রণ দূর হয়।
খুশকি দূর করতে: খুশকি একটি বিরক্তিকর সমস্যা, যা থেকে মুক্তি পেতে তেজপাতার গুঁড়ো ব্যবহার করা যেতে পারে। শুকনো তেজপাতা গুঁড়ো করে টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। মাথার তালুতে খুশকি থাকলে এই প্যাক নিয়মিত লাগান এবং কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু করে নিন। এটি খুশকি কমাতে সাহায্য করবে।
প্রাকৃতিক কন্ডিশনার: তেজপাতা প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবেও কাজ করে। কয়েকটি তেজপাতা জলে দিয়ে সিদ্ধ করুন। তারপর জল ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। শ্যাম্পু করার পর এই তেজপাতা ভেজানো জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার চুলকে মসৃণ ও ঝলমলে করে তুলবে।
সুতরাং, আপনার রান্নাঘরের এই সহজলভ্য উপাদানটি কেবল আপনার খাবারের স্বাদই বাড়াবে না, বরং আপনার ত্বক, চুল ও দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আজই ব্যবহার করে দেখুন তেজপাতার এই অসাধারণ রূপচর্চার গুণাগুণ!