শুধু ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়: দাঁতের যত্নে যা জানা জরুরি!

সকালে একবার দাঁত ব্রাশ করা ছাড়া সারাদিন কি আমরা দাঁতের কোনো যত্ন নিই? নানা রকম খাবার গ্রহণ করতে গিয়ে দাঁত প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই শুধু দাঁত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আরও কিছু বাড়তি যত্ন।

দাঁতের সমস্যার মূল কারণ
দন্তবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দাঁতের যাবতীয় সমস্যার মূল কারণ হলো দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার। বিশেষ করে প্রসেসড ফুড বা প্রিজারভেটিভযুক্ত খাবারে থাকা অতিরিক্ত চিনি দাঁতের দ্রুত ক্ষয় করে। যারা বেশি কফি পান করেন, তাদের দাঁতও দ্রুত ক্ষয় হয় এবং দাঁতে দাগ পড়ে।

আমাদের দাঁতগুলো সমতল নয়, সেগুলোতে ভাঁজ আর ফাঁকা জায়গা থাকে। এই ফাঁকে ফাঁকেই খাবার জমে একটি পাতলা আঠালো স্তর তৈরি করে, যা দাঁতের গায়ে আটকে থাকে। ভালোভাবে ব্রাশ না করলে এই স্তরটি ওঠে না।

করণীয়: দিনে দুইবার ব্রাশ করার পাশাপাশি যেকোনো স্টার্চজাতীয় খাবার খাওয়ার পর একবার ভালো করে কুলকুচি করে নেওয়া প্রয়োজন। দাঁত সুস্থ রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কিছু খাওয়ার পর ভালোভাবে মুখ ধোয়া এবং নিয়মিত ওরাল হাইজিন মেনে চলা।

কখন বুঝবেন দাঁতে সমস্যা হচ্ছে?
কিছু লক্ষণ দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে:

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ: এটি দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার একটি বড় লক্ষণ।
মাড়ি থেকে রক্তপাত: এটিও সতর্ক হওয়ার মতো একটি বিষয়।
দাঁত নড়ে যাওয়া: অনেক সময় দাঁত তার গোড়া থেকে নড়ে যায় বা কিছু খেলেই খাবারের কণা ফাঁকে ঢুকে যায়, যা সুস্থ দাঁতের লক্ষণ নয়।
মাড়ি ফুলে যাওয়া বা ব্যথা: মাড়িতে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
ঠান্ডা কিছু খেলে দাঁতে শিরশিরানি: এটিও দাঁতের সমস্যার একটি সাধারণ লক্ষণ।
দাঁতে কোনো সমস্যা থাকুক বা না থাকুক, প্রতি তিন মাস পরপর চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে কোনো সমস্যার পূর্বাভাস পেলে দ্রুত সচেতন হওয়া যায়।

দাঁতের যত্নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলুন:

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: ফাস্টফুডের প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করুন। নিয়ম করে ডাক্তার দেখান এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ব্যবস্থা করুন, নয়তো সমস্যা কমবে না।
তামাক ও মদ্যপান ত্যাগ: তামাক জাতীয় দ্রব্যের প্রতি আসক্তি থাকলে দাঁতের যত্ন নিলেও কোনো লাভ হবে না। মদ্যপানও দাঁতের স্বাস্থ্যহানির অন্যতম কারণ।
সঠিক ব্রাশ ব্যবহার: একটি ব্রাশ বিশ দিন থেকে এক মাসের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। ব্রাশ করার সঠিক পদ্ধতি জানা দরকার। ব্রাশ করার সময় খুব বেশি চাপ যেমন নয়, তেমনই খুব আলগা চাপও নয়। নরম অথচ দাঁতের ফাঁকে পৌঁছাতে পারে এমন ব্রাশ ব্যবহার করুন।
গঠনগত ত্রুটিতে সতর্কতা: দাঁতে গঠনগত কোনো ত্রুটি থাকলে কিংবা কোনো সমস্যা থাকলে প্রথম থেকেই সতর্ক হোন। শিশুদের দাঁতে কম বয়সেই কোনো সমস্যা ধরা পড়লে তার জন্যও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
খাবারের পর মুখ পরিষ্কার: স্টার্চ জাতীয় খাবার, লজেন্স বা চকোলেট খেলে ভালো করে মুখ ধুয়ে একবার ব্রাশ করে নিতে পারলে ভালো হয়।
লবঙ্গের ব্যবহার: প্রতিদিন একটি করে লবঙ্গ কিছুক্ষণের জন্য মুখে রাখুন। শ্বাসের দুর্গন্ধ যেমন দূর হবে, তেমনই লবঙ্গের রসে দাঁতের টুকটাক সমস্যাও কমতে পারে।