শীতের আগমন ঘটতেই ঠান্ডা লাগার সমস্যা বাড়ে। এর ফলে সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা এবং বুকে কফ জমার মতো সাধারণ সমস্যা দেখা যায়। সময়মতো এই সমস্যার সমাধান না করলে তা শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আগে প্রাথমিক উপশমের জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে।
গলায় ও বুকে কফ জমার সমস্যা উপশমে বিশেষভাবে কার্যকরী ৫টি ঘরোয়া টোটকা নিচে দেওয়া হলো:
১. লবণ জল দিয়ে গার্গল
গলা পরিষ্কার করার সবচেয়ে দ্রুত এবং কার্যকর উপায় হলো লবণ জল দিয়ে গার্গল করা।
পদ্ধতি: এক গ্লাস উষ্ণ গরম জলে ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ লবণ মেশান।
ব্যবহার: প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অন্তর ভালোভাবে গার্গল করুন। এটি আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট সংক্রমণ প্রতিরোধেও দারুণ কার্যকর।
২. মধু ও আদার মিশ্রণ
আদা এবং মধুর মিশ্রণ গলা ব্যথা এবং শুষ্ক কাশি উপশমে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়।
পদ্ধতি: এক টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে এক চা চামচ আদার রস মিশিয়ে নিন।
ব্যবহার: গলা ব্যথা কমাতে এবং কাশি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য প্রতিদিন অন্তত তিনবার এই মিশ্রণটি খান।
৩. ভেষজ চা পান
কফ বা শ্লেষ্মার চিকিৎসায় ভেষজ চা, বিশেষ করে পিপারমিন্ট চা খুবই কার্যকর।
উপকারিতা: পিপারমিন্ট চায়ে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ রয়েছে, যা শ্বাসনালী পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
৪. এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে স্টিম
গরম জলের বাষ্প বা স্টিম নিলে জমে থাকা কফ পাতলা হয়ে যায় এবং শ্বাসযন্ত্রের ট্র্যাক্ট পরিষ্কার হয়।
পদ্ধতি: কফ দ্রুত পাতলা করার জন্য দিনে একবার বা দুইবার স্টিম নিন।
কার্যকারিতা বৃদ্ধি: গরম জলে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস বা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল (Essential Oil) মেশালে তা আরও কার্যকর হতে পারে।
৫. পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ
কফের সমস্যা দ্রুত দূর করতে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনা জরুরি। কিছু প্রাকৃতিক উপাদান কফ কমাতে সাহায্য করে।
করণীয়: নিয়মিত এলাচ, পেঁয়াজ, আনারস, আদা, রসুন এবং গোলমরিচ বেশি পরিমাণে খেতে হবে। এই উপাদানগুলি কফ বের করে দিতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।