শীতের মরসুমে এক কাপ গরম কফি কফিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দেয়। কিন্তু এই আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হতে পারে যদি অসাবধানতাবশত কফি কাপড়ে পড়ে যায়। কফির নাছোড়বান্দা দাগ জামা থেকে তোলা রীতিমতো এক যুদ্ধ, যেখানে বহু চেষ্টা করেও অনেক সময় হার মানতে হয়। তবে চিন্তার কিছু নেই! যতই জেদি দাগ হোক না কেন, কফির দাগ তোলার কিছু সহজ এবং কার্যকরী উপায় আছে, যা জানলে আপনি অনায়াসেই প্রিয় পোশাকটি বাতিল না করে দাগ তুলে ফেলতে পারবেন।
জেনে নিন কফির জেদি দাগ তোলার সহজ উপায়গুলি:
প্রথম পদ্ধতি: ভিনিগার ও বেকিং সোডার জাদু
দ্রুত পদক্ষেপ: কাপড়ে কফি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি সম্ভব হয়, তাহলে হালকা গরম জলে জামাটি কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। যদি সেই সুযোগ না থাকে, অন্তত যে অংশে কফি পড়েছে, সেই অংশটি দ্রুত জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কাপড়ে কফি শুকোতে দেবেন না। একবার শুকিয়ে গেলে দাগ তোলা অনেক কঠিন হয়ে যায়।
ভিনিগারের প্রয়োগ: এরপর একটি তুলো বা পরিষ্কার কাপড়ে সাদা ভিনিগার (White Vinegar) নিয়ে কফির দাগের উপর ভালোভাবে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। ভিনিগার দাগকে নরম করতে সাহায্য করবে।
বেকিং সোডার ব্যবহার: ভিনিগার লাগানোর পর তার উপর সামান্য বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন। এবার একটি নরম ব্রাশ (যেমন পুরনো টুথব্রাশ) দিয়ে দাগের উপর হালকা হাতে ঘষে নিন।
ধুয়ে ফেলা: এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন এবং স্বাভাবিক ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে কাপড়টি কেঁচে ফেলুন। দেখবেন কফির দাগ উধাও হয়ে গেছে।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: বেবি পাউডার ও ভিনিগার-বেকিং সোডা মিশ্রণ
বেবি পাউডার শোষণ: কাপড়ের যে অংশে কফির দাগ লেগেছে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে খানিকটা বেবি পাউডার ছড়িয়ে দিন। বেবি পাউডার কফির তরল অংশ এবং দাগের কিছুটা শুষে নিতে সাহায্য করবে। কিছুক্ষণ রেখে দিন।
পাউডার অপসারণ: পাউডার শুকিয়ে গেলে বা দাগ শুষে নিলে সাবধানে ঝেড়ে ফেলে দিন।
বিশেষ মিশ্রণ: এবার একটি ছোট পাত্রে সামান্য সাদা ভিনিগার এবং বেকিং সোডা একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
দাগের উপর প্রয়োগ: এই মিশ্রণটি সরাসরি কফির দাগের উপর লাগিয়ে হালকা করে ঘষে নিন।
চূড়ান্ত ধোয়া: পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং শেষে লিক্যুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে কাপড়টি কেঁচে নিন। এই পদ্ধতিতেও কফির জেদি দাগ সহজেই গায়েব হয়ে যাবে।
এই সহজ ঘরোয়া কৌশলগুলি অনুসরণ করলে কফির দাগ নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। আপনার প্রিয় পোশাক আবারও পরিপাটি হয়ে উঠবে, এবং শীতের কফি-বিলাসে কোনো বিরক্তি আসবে না।