শিশু থেকে বড়, ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করে কেন? জেনেনিন এর কারণ

ঘুমের ভেতর অনেকে দাঁত কিড়মিড় করে। বড় থেকে শিশু সবারই একই অবস্থা। ঘুমের ভেতর দাঁত পেষা বা কিড়মিড় করা, একে ব্রুক্সিজম বলা হয়। সাধারণত ৬ মাস বয়সে মাড়িতে ব্যথা ও শিরশিরানির কারণে অনেক বাচ্চাই এমন করে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাস দূর হয়ে যায়। কিন্তু কিছু কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার পরও এই অভ্যাস থেকে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ওরাল কেয়ার ব্র্যান্ড বিফোরের বোর্ড সদস্য কেটি বিটনার বলেছেন,‘দাঁত পেষা বা কিড়মিড় করা মানে শ্বাসনালীর ভেতর বাঁধার লক্ষণ। শ্বাসনালীতে কোনো বাঁধার সৃষ্টি হলে ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। ব্রুক্সিজম সাধারণত রাতে বার বার ঘটতে পারে।

মজার বিষয় হলো,যারা রাতে তাদের দাঁত পিষে তারা ২৫০ পাউন্ড শক্তি প্রয়োগ করতে পারে দাঁতের ওপর।

কিভাবে বুঝবেন যে রাতে আপনার এমনটা হয়?

রাতে দাঁত কিড়মিড় করার কারণে মাথা ব্যাথা হতে পারে। এ ছাড়াও ফ্র্যাকচার, দাঁত মজবুত না থাকা, দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যাওয়া, দাঁতের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি, ঘাড়ে ব্যথা, কানের ব্যথা এবং কামড়ের কারণে আপনার গালের ভিতরের অংশও কেটে যেতে পারে। এমন কিছু নজরে আসলেই বুঝবেন আপনি রাতে দাঁত পিষছেন।

যদিও সকালের মাথাব্যথা অথবা চোয়ালের ব্যথা এই সমস্যার ইঙ্গিত দিলেও অন্য কারণ থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে দাঁতের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কেন হয়?

নতুন দাঁত বের হওয়ার সময় এমন হতে পারে শিশুদের। এ ছাড়া দাঁত কিড়মিড় করার অন্যান্য কারণের মধ্যে হতে পারে-

** সামনে এবং পিছনে দাঁত থাকলে এমন হতে পারে।

** কানে ব্যথা হলেও এমনটা হতে পারে।

** কোনো রোগের চিকিৎসা চলাকালীন সময় বাচ্চাদের এই সমস্যা হতে পারে।

বেশি বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করার কারণ-

** ভয় পেলেও দাঁত পেষে অনেকে।

** ওষুধ খেলে বা এর কারণে

** দাঁত এক লাইনে না থাকা

** পেটের সমস্যা থাকলেও বাচ্চারা দাঁত পিষে থাকে। যেমন: কৃমি

কী করতে পারেন?

দাঁত কিড়মিড় করলে আপনার দাঁতের ক্ষতিই হবে বেশি। মুখের পেশীতে চাপ পড়বে এবং চোয়ালের জয়েন্টের ক্ষতি হতে পারে । এমনকি (টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার ডিসঅর্ডার) টিএমডিও হতে পারে।

ব্রুকসিজম নিয়ে গবেষণার পরিমাণ অনেক সীমিত। তবে কেন এটা হচ্ছে সেটা বের করা প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, আপনার স্ট্রেস বা চাপ থাকলে কমানোর চেষ্টা করতে হবে। এ ছাড়া যা করতে পারেন-

** শিশুদের ঘুমাতে যাওয়ার আগে টিভি, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব ব্যবহার করতে দেবেন না। কারণ এসব তাদের অধিক উৎসাহিত করে ফেলে এবং রাতে ঘুমানোর সময় অযথাই দাঁত পিষতে শুরু করে।

** বাচ্চাদের ঘুম নষ্ট করা যাবে না। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

** তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে, সেটা ৭-৮ ঘণ্টা।

** সন্ধ্যার পর ক্যাফিন যুক্ত পানীয় যেমন- চা, কফি পান করা থেকে দূরে থাকুন।

** মানসিক অবসাদে ভুগলে কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

** দাঁতের কোনো সমস্যা থাকলে ডেন্টিস্টের কাছে যেতে দেরি করবেন না।

** কোনো ওষুধ খাওয়ার পর শিশুর সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মানসিক অবসাদ যদি ব্রুক্সিজমের অন্যতম কারণ হয়, তবে নিজেকে বা সন্তানকে আনন্দে রাখার চেষ্টা করুন।