শরীর চায় জল! বুঝুন জলের অভাবের ৭টি নীরব সংকেত

মানবদেহের প্রায় ৭৫ শতাংশই জল। খাবার ছাড়া কয়েক দিন বেঁচে থাকা গেলেও, জলের অভাবে শরীর দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়ায় জল পানের প্রবণতা কমে যায়, যা ডেকে আনতে পারে নানা শারীরিক জটিলতা। একটু সতর্ক হলেই শীতেও পর্যাপ্ত জল পান করে সুস্থ থাকা সম্ভব।

আমাদের শরীর জল ধরে রাখতে পারে না। তাই শারীরবৃত্তীয় কাজকর্মের জন্য প্রয়োজনীয় জলের ঘাটতি হলে, শরীর বাধ্য হয়ে লবণের সঙ্গে জোট বেঁধে জল জমাতে শুরু করে। এর ফলে শরীরে হালকা ফোলাভাবও দেখা দিতে পারে। অনেকেই হয়তো বলবেন, শীতে তেমন তেষ্টা পায় না, তাই জল পান কম হয়। কিন্তু তেষ্টা না পেলেও শরীরে জলের অভাব হতে পারে। কিছু উপসর্গ দেখলে বোঝা যায় আপনার শরীর জল চাইছে:

১. বিনা কারণে মাথা যন্ত্রণা ও সহজে ক্লান্তি:

শরীরে জলের অভাব হলে এক ধরনের মাথা যন্ত্রণা অনুভূত হতে পারে। মাইগ্রেন বা চোখের সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ মাথা ধরলে বুঝবেন, শরীর ‘ওয়াটার থেরাপি’ চাইছে। সামান্য পরিশ্রমেও যদি দ্রুত ক্লান্তি আসে, তবে তা জলের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। ভারী কাজ বা শরীরচর্চার সময় কিছুক্ষণ পর পর জল পান করলে ক্লান্তি অনেকটাই কম অনুভূত হবে।

২. অল্পেই অসুস্থ হয়ে পড়া:

শীতকালে সামান্য ঠান্ডা লাগলেই যদি আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে শুধু ওষুধে ভরসা না করে জলের পরিমাণ বাড়ান। জল শরীরের টক্সিন ও ব্যাকটেরিয়া বের করে দিতে সাহায্য করে। কম জল পান করলে এই ক্ষতিকর উপাদানগুলো শরীর থেকে ভালোভাবে বের হতে পারে না। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

৩. মূত্রের সময় জ্বালা:

মূত্রের মাধ্যমে শরীরের অনেক টক্সিন নির্গত হয়। কিন্তু জল কম পান করলে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে টক্সিন বহন করার মতো তরল পায় না। ফলে মূত্রের পরিমাণ কমে যায় এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালা অনুভব হতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান করার পরেও যদি এই সমস্যা থাকে, তবে অবশ্যই একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য:

জল কম পান করলে শরীর তার জরুরি জৈবিক কাজগুলো চালানোর জন্য মলের থেকেও জল শোষণ করে নেয়। এর ফলে মল কঠিন হয়ে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে। পর্যাপ্ত জল পান এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতে পারে।

৫. অতিরিক্ত ক্ষুধা:

শরীরে ক্ষুধা ও জলের কেন্দ্র কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ার কারণে, অনেক সময় তেষ্টাকেও ক্ষুধা হিসেবে ভুল হতে পারে। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই যদি আবার ক্ষুধা লাগে, তবে প্রথমে জল পান করে দেখুন। বারবার এমন হলে বুঝবেন আপনার শরীর আসলে জল চাইছে।

৬. ত্বকের সমস্যা:

শরীরে টক্সিন জমলে ত্বক তার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য হারায় এবং নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত জলের অভাবে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে শীতকালে বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ব্রণর উপদ্রব— সবই কম জল পানের কারণে হতে পারে।

শরীরের সঠিক কার্যকারিতার জন্য পর্যাপ্ত জল পান করা অপরিহার্য, এমনকি শীতকালেও। তাই এই নীরব সংকেতগুলো চিনে নিয়মিত জল পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ থাকুন।