শপিং ভালোবাসেন না, এমন নারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বিশেষ করে উৎসবের আগে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। শুধু কেনাকাটাই নয়, অনেক নারীর কাছে শপিং মলে ঘুরে বেড়ানো বা উইন্ডো শপিংও মন ভালো করার দারুণ উপায়। নারীদের শপিংয়ের এই নেশা নিয়ে কম হাসিঠাট্টা হয় না!
তবে এবার একটি গবেষণার ফল জানলে আপনি অবাক হতে পারেন। মার্কেটিং রিসার্চ ফার্ম ওয়ানপোল ডট কমের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, একজন নারী তার জীবনের প্রায় সাড়ে ৮ বছর শুধু কেনাকাটা করেই কাটিয়ে দেন! ভাবা যায়?
দুই হাজার নারীর উপর চালানো এই সমীক্ষায় শপিং নিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, একজন নারী বছরে প্রায় ৪০০ ঘণ্টা ব্যয় করেন জামাকাপড়, বই, খাবার এবং বাথরুমের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে।
শুধু কেনাকাটাই নয়, উইন্ডো শপিংয়ের প্রতিও নারীদের দুর্বলতা কম নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন নারী বছরে গড়ে ৪৯ ঘণ্টা শুধু উইন্ডো শপিং করেই কাটান!
জামাকাপড় কেনার ক্ষেত্রেও নারীরা যথেষ্ট সময় ব্যয় করেন। সমীক্ষা অনুযায়ী, একজন নারী পছন্দের পোশাক খুঁজে বের করার জন্য বছরে প্রায় ১০০ ঘণ্টা বিভিন্ন মলে ঘোরাঘুরি করেন। এর পাশাপাশি সঠিক জুতা খুঁজে নিতে তারা অতিরিক্ত ৪০ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় ব্যয় করেন। শুধু তাই নয়, পছন্দের বই ও ম্যাগাজিন খুঁজে বের করতেও বছরে ৩১ ঘণ্টা ২১ মিনিট খরচ করেন তারা।
তবে শপিংয়ের এই নেশা যেন সময় নষ্টের কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। অতিরিক্ত জিনিসপত্র দেখে মাথা ঘুরলেও কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা নয়, তা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ, অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে অনেক সময় ভুল জিনিস কেনার সম্ভাবনাও থাকে। তাই বুদ্ধি খরচ করে এবং মার্কেট সম্পর্কে জেনে কেনাকাটা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
শপিং করার সময় আর কী কী খেয়াল রাখতে হবে:
কেনাকাটা করার সময় জিনিসের গুণগত মান ভালোভাবে দেখে নিন।
বড় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ছোট দোকান থেকেও দরদাম করে কেনাকাটা করতে পারেন। অনেক সময় ছোট দোকানে ভালো জিনিস কম দামে পাওয়া যায়।
কোনো জিনিস কেনার আগে বিভিন্ন দোকানে তার দাম যাচাই করে নিন। এতে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকুন। আবেগের বশে অতিরিক্ত কেনাকাটা করা আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নারীদের শপিংয়ের প্রতি এই ভালোবাসা এবং দীর্ঘ সময় ব্যয় করা হয়তো অনেকের কাছে মজার বিষয় হতে পারে। তবে কেনাকাটা শুধু প্রয়োজন মেটানোই নয়, অনেক নারীর কাছে এটা একটা আনন্দেরও বিষয়। তাই শপিং করুন, তবে একটু সচেতন থাকুন!