রান্নায় স্বাদ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুনের গুণাগুণ

রান্নার স্বাদ বৃদ্ধিতে রসুনের ব্যবহার অপরিহার্য। তবে শুধু স্বাদ নয়, রসুনের রয়েছে বহুবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতা। সম্প্রতি এনটিভির স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’-এর একটি পর্বে ফরাজী ডেন্টাল হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পুষ্টিবিদ নাবিলা বিনতে কবির রসুনের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
পুষ্টিবিদ নাবিলা বিনতে কবির জানান, রসুন সাধারণত রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বেশ সমৃদ্ধ। প্রাচীনকালে চীন, গ্রিস, মিশর এবং রোমানরা রসুনকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করত। রসুনে থায়ামিন, নায়াসিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, ফোলেট ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান, যা এটিকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
তিনি বলেন, রসুনে রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। এটি শরীরে নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপাদনে সাহায্য করে। নাইট্রিক অ্যাসিড রক্তনালী প্রসারিত করে, যার ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কমে আসে। এছাড়াও, রসুনে এমন উপাদানও রয়েছে যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়ক। এটি লিভারে কোলেস্টেরলের উৎপাদন কমিয়ে রক্তে এর পরিমাণ হ্রাস করে। রসুন শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এতে থাকা বিশেষ উপাদান ক্যানসার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।
নাবিলা বিনতে কবির আরও যোগ করেন, রসুনে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এই কারণে এটি শরীরে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এমনকি রসুন আমাদের ওজন কমাতেও সহায়ক হতে পারে। তবে রসুনের কিছু অপকারিতাও রয়েছে। এর কারণে মুখে দুর্গন্ধ, গ্যাস বা বুকজ্বালা হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে, তাদের রসুন এড়িয়ে চলা উচিত।
এই পুষ্টিবিদ উল্লেখ করেন, রসুনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভরপুর, যা ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এবং পেটের কৃমি দূর করতে সহায়ক। রসুন পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। রান্না করা রসুনের তুলনায় কাঁচা রসুনে ভিটামিন ও মিনারেলের পরিমাণ বেশি থাকায়, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঁচা রসুন যোগ করার চেষ্টা করা উচিত।