রাত জাগা পেঁচা হবেন না, ভোরের আলোয় জেগে উঠুন! রইলো সহজ টিপস

একেকটি নতুন ভোর যেন এক একটি নতুন দিনের স্বপ্ন দেখায়। যারা ‘সকাল বেলার পাখি’, তাদের কাছে এই কথা সত্যি। কিন্তু যারা রাত জাগা পেঁচা, তাদের কী হবে? তাদেরও ভোরের আলোয় জেগে ওঠার সুযোগ আছে। শুধু কষ্ট করে কয়েকটা দিন মেনে চলতে হবে কিছু সহজ নিয়ম। তাহলেই সকালে ওঠার অভ্যাস তৈরি হয়ে যাবে। আর সকালে উঠে চাঙ্গা থাকারও রয়েছে কিছু বিশেষ পন্থা।

ছন্দময় অ্যালার্ম: সকালে ঘুম ভাঙানোর জন্য কর্কশ বা জোরালো শব্দের অ্যালার্মের পরিবর্তে হালকা ও ছন্দময় অ্যালার্ম ব্যবহার করুন। কারণ জোড়ালো শব্দে ঘুম ভাঙলে শরীরে এক ধরনের ক্লান্তি ভর করে। ‘ইউ এস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, পপ সঙ্গীত, ছন্দময় যন্ত্রসঙ্গীত অথবা পাখির কলকাকলির মতো প্রাকৃতিক শব্দ সুন্দরভাবে ঘুম ভাঙাতে সাহায্য করে। ‘হেল্থলাইন ডটকম’-এর প্রতিবেদনও ২০১৬ এবং ২০২০ সালের দুটি গবেষণার একই তথ্য তুলে ধরেছে। তাই স্বপ্নময় ঘুম ভাঙাতে ছন্দময় অ্যালার্ম হতে পারে এক চমৎকার উপায়।

আলো প্রবেশ করতে দিন: প্রাকৃতিক আলো সকালের রুটিনে দারুণ প্রভাব ফেলে। সূর্যের আলো আমাদের শরীরের ভেতরের ঘড়িকে (body clock) জাগিয়ে তোলে, যা আসলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার সংকেত দেয়। দিনের আলো শুধু ঘুমই ভাঙায় না, সকালের আলো গায়ে মাখলে তা সন্ধ্যার পর তাড়াতাড়ি ঘুমানোর সংকেত হিসেবেও কাজ করে। তাই সকাল হলেই ঘরের পর্দা সরিয়ে দিন, আলো প্রবেশ করতে দিন। কোলাহল শুরু হওয়ার আগেই বুক ভরে নিন সকালের নির্মল বাতাস।

মুখ ধোয়া: ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই আলসেমি না করে কুসুম গরম বা ঠান্ডা জল দিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে নিন। এটি শরীরের জড়তা কাটাতে এবং চোখের ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক।

পুষ্টিকর খাবার: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার সকালের নাস্তায় যোগ করা খুবই উপকারী। সকালে খালি পেটে থাকলে দুর্বল লাগা স্বাভাবিক। তাই নাস্তার জন্য বেছে নিন ফল, সবজি, লাল আটার রুটি, ডিম ও সাধারণ টক দই। শরীরকে আর্দ্র রাখতে চা বা কফি পান করতে পারেন, তবে জল পানের কথা ভুলবেন না। ধীরে ধীরে অন্তত দু গ্লাস জল সকালে খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শরীরচর্চা: ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে খুবই ভালো। যদি সম্ভব না হয়, অন্তত হালকা স্ট্রেচিং করুন। হাত-পা টানটান করার মাধ্যমে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে, ফলে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছায় এবং শরীরের জড়তা কেটে গিয়ে চাঙ্গা অনুভব হয়।

টুকটাক কাজ: সকালে উঠে কাজ করতে ভালো না লাগলেও, ঘরের ছোটখাটো কাজ করার চেষ্টা করুন। যেমন নিজের বিছানা গোছানো, খাবার থালাবাসন ধোয়া ও গুছিয়ে রাখা, ময়লা কাপড় ধোয়ার জন্য আলাদা করে রাখা ইত্যাদি।

কাজের তালিকা তৈরি: দিনের বিভিন্ন সময়ে কী কী কাজ বাকি আছে, সেগুলোর একটি তালিকা সকালে তৈরি করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এর দুটি সুবিধা রয়েছে – এক, মস্তিষ্ক কিছুটা সক্রিয় হয় এবং দ্বিতীয়ত, কাজগুলো সঠিকভাবে করার পাশাপাশি পরের দিনের কাজেরও একটা ধারণা তৈরি হয়ে যায়।

আনন্দদায়ক কিছু করুন: প্রতিদিন সকালে উঠেই যে ফলপ্রসূ কিছু করতেই হবে এমন নয়। সকালে নিজের পছন্দের কাজগুলোও করতে পারেন। সেটা হতে পারে গেম খেলা, প্রিয় সিরিয়াল দেখা, গান শোনা বা বই পড়া। এই মজার কাজগুলো দিনের শেষভাগে করার চাইতে প্রথমভাগে করলে, রাত জাগার অভ্যাস অনেকটাই কমে আসবে।

প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ: বন্ধু, আত্মীয় বা প্রিয় মানুষের সঙ্গে সারাদিনে তো কথা হয়ই, তবে সকালবেলাতেই সাধারণ শুভেচ্ছা জানিয়ে দিনের শুরু করাটা অন্যরকম অনুভূতি দেবে। সকালে উঠে অনেকেরই কথা বলতে ভালো না লাগলেও, প্রিয়জনদের সঙ্গে সাধারণ শুভেচ্ছা বিনিময় আপনার সকালটাকে আরও অর্থবহ করে তুলবে।

আসল কথা হলো, জীবনে সকালের আগমন তো আর ঠেকানো যাবে না। তাই নিজের ভালো লাগার মতো একটি সকালের রুটিন তৈরি করে নিন। আর মনে রাখবেন, সুন্দর সকালের জন্য চাই একটি সুন্দর রাতের রুটিন। আর সেটার প্রথম ধাপই হলো তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া।