যানজটকে ‘গুডবাই’ জানাতে বাইক কিনছেন? নতুন চালকদের জন্য রইল জরুরি ৭টি টিপস!

যানজটের এই যুগে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যেন এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ! ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে যেমন ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে, তেমনই নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেই এখন দুই চাকার বাহনের দিকে ঝুঁকছেন। স্বল্প দাম এবং হুটহাট পাহাড় বা সমুদ্র ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ার স্বাধীনতার কারণে মোটরসাইকেল ও স্কুটারের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে নতুন বাইক কেনার আগে কিছু জরুরি বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এড়িয়ে গেলে ভবিষ্যতে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক বাইক কেনার আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখা উচিত:

১. বাজেট নির্ধারণ:
প্রথমেই ঠিক করুন, আপনি মোটরসাইকেল অথবা স্কুটার কেনার জন্য কত টাকা খরচ করতে ইচ্ছুক। বেশিরভাগ সময় ব্যাংক লোনের মাধ্যমে বাইক কেনা হয়, তাই আপনার মাসিক কিস্তি পরিশোধের ক্ষমতা এবং সঞ্চয়ের পরিমাণ অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করুন। মনে রাখবেন, একটি স্কুটার বা মোটরসাইকেল অন্তত ২-৩ বছর চালাবেন, তাই এর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ (যেমন – সার্ভিসিং, যন্ত্রাংশ) এবং নিয়মিত পেট্রল ভরার খরচও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

২. নতুন নাকি পুরোনো?
আপনার বাজেট এবং অভিজ্ঞতার উপর এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে। যদি আপনি প্রথমবার নিজের স্কুটার অথবা মোটরসাইকেল কেনেন, তবে পুরোনো বাইক কেনা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। একবার চালানো শিখে গেলে ১-২ বছর পর সেই বাইক বিক্রি করে একটি নতুন মডেল কিনতে পারেন। এতে শেখার সময়ে ক্ষতির ঝুঁকি কম থাকে।

৩. ব্র্যান্ড নির্বাচন:
মোটরসাইকেল কেনার সময় কোন ব্র্যান্ডের বাইক কিনবেন, তা সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে আপনি আপনার পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন যাদের বাইক চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। নতুন বাইক কেনার ক্ষেত্রে সর্বদা নির্ভরযোগ্য এবং জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের উপর গুরুত্ব দেওয়া ভালো। এতে আপনার গাড়ির নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়।

৪. মডেল ও মাইলেজ:
দুই চাকার কোন মডেল কিনবেন, তা ঠিক করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। নিশ্চিত করুন যে বাইকটি আরামদায়ক হয় এবং এর ওজন আপনার শারীরিক ক্ষমতার মধ্যে থাকে, যাতে আপনি তা সহজে সামলাতে পারেন। বর্তমান পেট্রলের ক্রমবর্ধমান দামের দিকে নজর রেখে বাইকের মাইলেজের উপরও গুরুত্ব দিন। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ১ লিটার পেট্রলে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলা যায়, এমন বাইকই বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

৫. বাইকের ওজন:
বাইক কেনার আগে অবশ্যই এর ওজন পরীক্ষা করে নিন। গাড়ির ওজন বেশি হলে তা সামলানো আপনার জন্য কঠিন হতে পারে। কিছু বাইক খুবই হালকা হয়, যা বেশি ওজনের ব্যক্তি বা সহযাত্রী থাকলে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই আপনার নিজের ওজন এবং আপনি সাধারণত কত ওজন বহন করবেন, তা বিবেচনা করে বাইকের ওজন বহন ক্ষমতা জেনে নিন।

৬. একাধিক ডিলারের কাছে যান:
মোটরসাইকেল কেনার আগে একাধিক ডিলারের কাছে যান। দাম শোনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় চেয়ে নিন। অন্তত ২-৩টি ডিলারের কাছ থেকে দাম জেনে এবং তাদের অফারগুলো তুলনা করে তবেই কেনার সিদ্ধান্ত নিন।

৭. টেস্ট রাইড ও দর-দাম:
আপনি নিজে বাইক চালাতে না জানলে সঙ্গে এমন একজন বন্ধুকে রাখুন যিনি দুই চাকার গাড়ি চালাতে পারেন। চেষ্টা করুন হাইওয়ে ও শহরের রাস্তায় টেস্ট রাইড নিতে, যাতে বাইকের পারফরম্যান্স সম্পর্কে একটা ধারণা হয়। এছাড়াও, শুধু মুখের কথায় বিশ্বাস না করে, মোটরসাইকেলের প্রতিটি জিনিসের দাম আলাদা আলাদা করে জেনে নিন। শোরুম থেকে কেনার খরচ ও রেজিস্ট্রেশনের খরচ আলাদাভাবে জানুন। কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডিলারকে দাম কমানোর অনুরোধ করুন। ক্যাশে কিনলে কত সস্তা হবে তা জিজ্ঞাসা করুন। যেহেতু কয়েকটি জায়গা থেকে দাম সম্পর্কে আপনার ধারণা হয়েছে, সেহেতু একটু দর-দাম করে ভালো দামে বাইক কিনতে পারবেন।

এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে বাইক কিনলে যানজটের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি একটি সঠিক এবং দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ নিশ্চিত হবে।