অনেকেরই হঠাৎ করে, যখন-তখন প্রস্রাবের অতিরিক্ত চাপ অনুভব করার সমস্যা থাকে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি বা বাসে যাতায়াতের সময় এই সমস্যায় পড়লে রাস্তায় বেরোনো বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর রাস্তার সব শৌচাগার স্বাস্থ্যকর না হওয়ায়, এই পরিস্থিতিতে পুরুষরা কোনোমতে சமாধান করতে পারলেও নারীদের পড়তে হয় চরম বিপাকে। ফলে, এই নিয়ে একটা চাপা আতঙ্ক সবসময় কাজ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্বল মূত্রাশয় (ব্লাডার) এই সমস্যার প্রধান কারণ হতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রস্রাব পরীক্ষা করানো জরুরি। তবে, এর পাশাপাশি কিছু খাবারও রয়েছে যা খেলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
আসুন, জেনে নেওয়া যাক এমন ৬টি খাবার সম্পর্কে যা হঠাৎ করে প্রস্রাবের বেগ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে:
১. কফি:
যদি আপনার ব্লাডার ইনফেকশনের সমস্যা থাকে, তাহলে সকালে ঘুম থেকে উঠে কফি খাওয়া এড়িয়ে চলুন। কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন ব্লাডারে অস্বস্তি বাড়াতে পারে এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ হতে পারে।
২. অ্যালকোহল:
নিয়মিত মদ্যপান করলে ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। অ্যালকোহল শুধু পেটে অস্বস্তি সৃষ্টি করে না, এটি ব্লাডারেও অস্বস্তি তৈরি করে। তাই যদি মূত্রনালির সংক্রমণের (ইউটিআই) প্রবণতা থাকে, তাহলে অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন।
৩. সোডা:
ব্লাডার ফুলে যাওয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ বা ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার (ওএবি)-এর সমস্যা থাকলে সোডা খাওয়া উচিত নয়। কার্বনেটেড বা সাইট্রাস সোডা (যেমন লেবু বা কমলালেবুর ফ্লেভারযুক্ত সোডা) থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকুন।
৪. অ্যাসিডিক ফল:
শরীরের জন্য ফল খাওয়া অবশ্যই ভালো। তবে যদি আপনার ব্লাডারের সমস্যা থাকে, তাহলে অ্যাসিডিক ফল মূত্রনালির সংক্রমণ বাড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে কমলালেবু, আঙুর, লেবু, টমেটো, পিচ, আপেল ও আনারসের মতো ফল খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
৫. স্পাইসি খাবার:
পিৎজাতে অতিরিক্ত চিলি ফ্লেক্স বা চিকেনকারিতে অতিরিক্ত ঝাল খাওয়া আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে যদি মূত্রনালিতে সংক্রমণ থাকে। ঝাল এবং মসলাদার খাবার ব্লাডারে অস্বস্তি তৈরি করে এবং প্রস্রাবের বেগ বৃদ্ধি করতে পারে।
৬. কৃত্রিম চিনি:
অনেকেই ক্যালরির পরিমাণ কমানোর জন্য খাবারে সাধারণ চিনির বদলে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করে থাকেন। চিকিৎসকরা বলছেন, যদি মূত্রনালিতে সংক্রমণ থাকে তাহলে কৃত্রিম চিনি খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি ব্লাডারের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
যদি আপনিও যখন-তখন প্রস্রাবের অতিরিক্ত চাপে ভোগেন, তাহলে এই খাবারগুলো কিছুদিন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন এবং একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। সঠিক ডায়েট এবং চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।