মেকআপে ব্যবহৃত প্রসাধনী ডেকে আনতে পারে ক্যান্সার!

সৌন্দর্যচর্চার জন্য ব্যবহৃত প্রসাধনী সামগ্রী শুধু ত্বক বা চেহারার বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং এগুলোতে থাকা কিছু রাসায়নিক পদার্থ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি একদল গবেষক জানিয়েছেন, মেকআপে ব্যবহৃত প্রসাধনী থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, এসব প্রসাধনীর আরও কিছু ক্ষতিকর প্রভাবের কথাও উঠে এসেছে তাদের গবেষণায়।
১. মহিলাদের যৌন হরমোনকে প্রভাবিত করতে পারে:
বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রীতে বিদ্যমান রাসায়নিক পদার্থ মহিলাদের যৌন হরমোনকে প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
২. প্রস্রাবে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ:
১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ১৪৩ জন নারীর ৫০০ বারের প্রস্রাব নিয়ে গবেষণাটি চালানো হয়। এই গবেষণায় আলট্রা ভায়োলেট ফিল্টার, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রিজারভেটিভস, বিসফেনল এ এবং ক্লোলোফেনলসের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া গেছে।
৩. ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা:
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসাধনীতে থাকা আলট্রা ভায়োলেট ফিল্টার এবং ফেনোলস ফলিক স্ট্রিমুলেশন হরমোন (FSH) এবং লুইটিনিজিং হরমোনের (LH) মাত্রা কমিয়ে দেয়। তবে একইসাথে প্যারাবেন হরমোন ও ডিম্বাশয় থেকে উৎপাদিত প্রধান হরমোন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। হরমোনের এই ভারসাম্যহীনতা মহিলাদের শরীরে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
৪. স্তন ক্যান্সার:
গবেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রসাধনীর কিছু রাসায়নিক উপাদান স্তন ক্যান্সারের মতো ইস্ট্রোজেন-নির্ভর রোগগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। ইস্ট্রোজেনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি স্তন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
৫. সতর্কতা:
এই ঝুঁকি এড়াতে গবেষকরা প্রসাধনী সামগ্রী কেনার এবং ব্যবহারের আগে সেগুলোতে কী কী রাসায়নিক দ্রব্য বা উপাদান রয়েছে তা ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সচেতনতা এবং সঠিক প্রসাধনী নির্বাচন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অতএব, মেকআপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সৌন্দর্যের দিকটি বিবেচনা না করে, ব্যবহৃত প্রসাধনীর উপাদান সম্পর্কে অবগত থাকা এবং স্বাস্থ্যকর বিকল্প নির্বাচনের উপর জোর দিয়েছেন গবেষকরা।