মিষ্টি খাবার ভীষণ প্রিয়? তাহলে সাবধান! অতিরিক্ত চিনি ডেকে আনছে হৃদরোগের ঝুঁকি

মিষ্টি ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। অনেকের তো প্রতিদিনের খাবারে একটু মিষ্টি না হলে চলেই না। তবে এই মিষ্টি প্রীতিই কিন্তু ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত চিনি খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। যে খাবারে চিনির পরিমাণ বেশি, সেই খাবারেই সাধারণত পুষ্টিগুণ কম থাকে। টাইপ ২ ডায়াবিটিস থেকে শুরু করে অ্যাকনে এবং হৃদরোগের মতো একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূলে রয়েছে চিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি খেলে শরীরে ইনসুলিন হরমোন তা সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না। ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি ফ্যাট হিসেবে জমা হতে শুরু করে। এই অতিরিক্ত ফ্যাট মেটাবলিক ডিসফাংশন এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। শুধু তাই নয়, এর হাত ধরে বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকিও। শরীরে চিনির মাত্রা বাড়লে পেটে মেদ জমে (হাই অ্যাবডমিনাল ফ্যাট)। ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের উৎপাদন বাড়ে, যা রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

এ প্রসঙ্গে চিকিৎসক দেবব্রত রায় বলেন, “চিনি বা অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। ডায়াবিটিসের সম্ভাবনা বাড়ে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্রে। ফলে করোনা বা অন্য যেকোনো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ডায়াবিটিস থাকলে শরীরে ইনসুলিন তৈরির পরিমাণ কমে যায়, যা করোনারি ব্লকেজের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। এমনকি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে। হৃদপেশি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং পাম্পিং ফাংশনে সমস্যা হয়ে হার্ট ফেলিওর পর্যন্ত হতে পারে।”

পুষ্টিবিদ সোমা চক্রবর্তী চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার ও হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সাধারণত চিনি বলতে সকালে চায়ের সঙ্গে মেশানো চিনিটাকেই ধরি এবং তা মেপে খাওয়ার একটা প্রবণতাও দেখা যায়। কিন্তু সমস্যা হল সেই চিনিতে যা আমরা সরাসরি দেখতে পাই না, যেমন কুকিজ, বিস্কুট, পেস্ট্রি বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারে লুকানো চিনি আরও বেশি ক্ষতিকর। কারণ চিনি ৬৩ রকমের হয়। মল্টোজ, ডেক্সট্রোজের মতো যেকোনো ধরনের সুগার শরীরের মধ্যে বেশি পরিমাণে গেলে তা মারাত্মক ক্ষতিকারক। এর ফলে হাইপারটেনশনের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে হৃদরোগের সম্ভাবনা তো বাড়বেই, পাশাপাশি অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও তৈরি হবে। সুস্থ থাকতে চিনি বর্জন করে ফাইবার জাতীয় খাবার ডায়েটে বেশি করে রাখা উচিত।”

সুতরাং, মিষ্টির প্রতি দুর্বলতা থাকলে আজ থেকেই সতর্ক হন। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনशैली মেনে চলুন। আপনার হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে চিনি থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে শরীরের প্রয়োজনীয় মিষ্টির চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy