মানহীন ঘি নয়, খাঁটি ঘিয়ের পুষ্টিগুণ পেতে ২ সহজ উপায়ে ঘরেই তৈরি করুন ঘি

খাঁটি ঘিয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং এর মন মুগ্ধ করা সুগন্ধের তুলনা নেই। তবে বাজারে প্রায়শই খাঁটি ঘিয়ের নামে মানহীন পণ্য বিক্রি হয়। দাম ও মানের দিক দিয়ে আসল ঘি খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য, আপনি খুব সহজে দুটি উপায়ে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন খাঁটি ঘি।

দুধের সর জমিয়ে ও বাটার দিয়ে এই দুটি পদ্ধতিতেই ঘি তৈরি করা যায়। বাটার দিয়ে দ্রুত ঘি তৈরি করা সম্ভব। অন্যদিকে, দুধের সর জমিয়ে তৈরি করা পদ্ধতিটি একটু সময়সাপেক্ষ।

পদ্ধতি ১: বাটার দিয়ে দ্রুত ঘি তৈরি
বাটার বা মাখন ব্যবহার করে খুব কম সময়ে ঘি তৈরি করা যায়।

উপকরণ ও প্রস্তুতি: ১ কাপ আনসল্টেড বাটার (Unsalted Butter) টুকরো করে কেটে নিন। বাটার ফ্রিজ থেকে বের করার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহার করা যাবে।

রান্না প্রক্রিয়া:

গভীর একটি প্যান চুলায় দিয়ে গরম করুন এবং বাটারের টুকরোগুলি এতে দিয়ে দিন।

চুলার আঁচ মিডিয়াম থেকে লো-তে রাখতে হবে।

বাটার গলে গেলে দেখবেন ফেনা উঠে আসছে। ধীরে ধীরে এই ফেনা কমে যাবে।

কিছুক্ষণ পর পর নেড়ে দিন। যখন দেখবেন বড় বড় ফেনা উঠে আসছে এবং ফেনার রঙ ধীরে ধীরে বাদামি হতে শুরু করেছে, তখন বুঝবেন ঘি তৈরি হয়ে গেছে।

ছাঁকা ও সংরক্ষণ: ঘি তৈরি হলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। একটি ছাঁকনির ওপর কিচেন পেপার বা পাতলা কাপড় বিছিয়ে ঘি ছেঁকে নিন।

সংরক্ষণ: বোতলে ভরে সংরক্ষণ করুন। রুম টেম্পারেচারে এই ঘি এক মাস পর্যন্ত ভালো থাকে এবং ফ্রিজে রাখলে ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে।

পদ্ধতি ২: দুধের সর থেকে ঘি তৈরি
এটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি, তবে কিছুটা সময়সাপেক্ষ।

প্রস্তুতি:

ফ্রিজে জমিয়ে রাখা দুধের সর বের করে গলিয়ে নিন।

এই সর মিহি করে বেটে বা ব্লেন্ড করে নিন।

বাটা সর জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং খুব সাবধানে সর থেকে জল আলাদা করুন।

অতিরিক্ত জল ঝরানোর জন্য সরটি পাতলা কাপড়ে করে কয়েক ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখুন।

রান্না প্রক্রিয়া:

জল ঝরানো বাটা সর চুলায় মৃদু আঁচে প্যানে দিয়ে নাড়তে থাকুন।

সরের পরিমাণের উপর নির্ভর করবে ঘি তৈরি হতে কতক্ষণ সময় লাগবে।

নাড়তে নাড়তে ধীরে ধীরে দেখবেন প্যানের তলায় ঘি জমতে শুরু করেছে। ঘি পুরোপুরি আলাদা হলে সাবধানে ছেঁকে সংরক্ষণ করুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy