মাথার মাঝখান থেকে কি চুল উধাও হচ্ছে? অবহেলা করলেই বাড়বে বিপদ, জেনে নিন চুল পাতলা হওয়ার আসল রহস্য!

মাথার সিঁথির কাছ থেকে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা চওড়া সিঁথি তৈরি হওয়া বর্তমান সময়ে এক অত্যন্ত সাধারণ অথচ উদ্বেগজনক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কমবয়সী তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তি—সকলেরই চুল পড়ার এই বিশেষ ধরনটি নিয়ে নানাবিধ দুশ্চিন্তা দেখা যায়। অনেকেই মনে করেন এটি কেবল স্বাভাবিক চুল পড়ার প্রক্রিয়া, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সিঁথির চারপাশের অংশ থেকে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট শারীরিক ও জীবনযাত্রাগত কারণ লুকিয়ে থাকে। সঠিক সময়ে এই কারণগুলি চিহ্নিত করতে না পারলে মাথার মাঝের অংশটি সম্পূর্ণ খালি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এই সমস্যার শেকড় পর্যন্ত পৌঁছানো এবং তার যথাযথ প্রতিকার করা প্রতিটি মানুষের জন্যই অত্যন্ত জরুরি।

সিঁথির কাছ থেকে চুল পাতলা হওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো বংশগত বা জিনগত অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া। বাবা-মা বা পরিবারের নিকটাত্মীয়দের যদি চুল ওঠার বা টাক পড়ার ইতিহাস থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, থাইরয়েডের সমস্যা বা গর্ভাবস্থার মতো শারীরিক পরিবর্তনের কারণেও চুলের ফলিকলগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে। আরেকটি বড় এবং সাধারণ কারণ হলো চুলের ওপর অতিরিক্ত টান পড়া। যাঁরা প্রতিনিয়ত খুব টাইট করে পনিটেল বাঁধেন বা চুলে অতিরিক্ত টান দিয়ে হেয়ারস্টাইল করেন, তাঁদের ‘ট্রাকশন অ্যালোপেসিয়া’ নামক সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে সিঁথির অংশ থেকে চুল স্থায়ীভাবে ঝরে যেতে শুরু করে।

পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং আধুনিক জীবনযাত্রার মারাত্মক প্রভাবও চুল পাতলা হওয়ার জন্য সমানভাবে দায়ী। শরীরে আয়রন, ভিটামিন ডি, প্রোটিন এবং বায়োটিনের মতো অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব ঘটলে চুলের গোড়া ভেতর থেকে আলগা হয়ে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপানের বদভ্যাসও মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়, যার ফলে নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনীর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং নিয়মিত হেয়ার ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনারের মতো হিট টুলস ব্যবহার করার ফলে চুলের রন্ধ্রগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সমস্ত ক্ষতিকর অভ্যাস এবং শারীরিক ত্রুটিগুলি সংশোধন করলেই কেবল সিঁথির চারপাশের চুল ঘন ও সুস্থ রাখা সম্ভব।