মাইগ্রেন আর স্পনডিলাইটিস সহ্যের বাইরে? জেনেনিন এর থেকে মুক্তির উপায়

সারাদিনের ব্যস্ততা আজ আমাদের কম্পিউটার, মোবাইলে ডুবিয়ে রেখেছে, তা থেকেই বাড়ছে এই সমস্যা
এখন শরীরে কোনও রোগ হওয়ার কোনও বয়স নেই। প্রেশার থেকে ব্লাড সুগার এখন থাবা বসাচ্ছে কখনও টিনএজারদের শরীরেও। সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় ভোগে ১৯ ২০-রা, তার মধ্যে একটি মাইগ্রেন আর একটি স্পন্ডিলাইটিস। দুটোর অসহ্য যন্ত্রণায় নাজেহাল অনেকেই। সবচেয়ে বড় কথা, এই যন্ত্রণা শুরু হওয়ার কোনও সময় বা পূর্বলক্ষণ নেই। বেশির ভাগ চিকিৎসকেরই মত, এখনকার প্রজন্ম সারাদিন মোবাইল ফোন নিয়ে বসে থাকে, তাতে বেশির ভাগ সময় ঘাড়-মাথা নিচু হয়ে থাকে তা থেকেই বাড়তে পারে সমস্যা। আবার এই দুই সমস্যা হতেই পারে জিনঘটিত। অনেক সময় শোওয়ার ভঙ্গি ঠিক না হলেও ব্যথা বাড়তে পারে। মাইগ্রেনের সমস্যা আবহাওয়া পরিবর্তন থেকেও হতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা-গরম লেগে গেলে তা থেকেও হতে পারে। কিন্তু সমস্যা থাকলে তার সমাধানও আছে। ঘরোয়া কিছু পদ্ধতিতে এর থেকে কিছুটা বিরাম পাওয়া সম্ভব ।

প্রথমে দেখে নিই কিছু উপায়, মাইগ্রেন থেকে রেহাই পাওয়ার :
১. ল্যাভেন্ডার অয়েল : ল্যাভেন্ডার অয়েলের মধ্যে ব্যথা কম করার মাইক্রোবস বর্তমান থাকে, তাই ব্যথার জায়গায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মাসাজ করলে ব্যথা থেকে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

২. অ্যাকুপ্রেশার : এতে এক বিশেষ পদ্ধতিতে হাতের তালুতে আঙুল দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ মাসাজ করতে হয়, যার ফলে সহজেই মাইগ্রেন থেকে আরাম পাওয়া যায়।

৩. আদা : মাইগ্রেন কমাতে আদা বেশ কার্যকর। আদাকুচি শুধু খেতে পার আবার ঈষদুষ্ণ জলে আদাকুচি মিশিয়ে সেটাও খেতে পার। দুটো থেকেই আরাম পাওয়া যায়।

৪. ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার : খাবারে ম্যাগনেসিয়াম যে-কোনও রকম ব্যথা, মাইগ্রেন, বাত এবং মেনস্ট্রুয়েশন, সব কিছুতেই কার্যকরী। ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড শরীরে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট বাড়িয়ে ব্যথার উপশম কমায়। যে খাবারগুলো থেকে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায় তারা হল ডিম, কাজু, দুধ, পিনাট বাটার, তিলের বীজ ইত্যাদি।

৫. কোল্ড কম্প্রেস : ব্যথার জায়গায় ঠান্ডা জল বা বরফ দিয়ে সেক দিলে অথবা ঠান্ডা তোয়ালে বা রুমালে বরফ পেঁচিয়ে ধরে রাখলে আরাম পাওয়া যায়। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট এই শীতল সেক দিতে পার।

এবার দেখা যাক স্পনডিলাইটিস থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় :
১. নিয়মিত ব্যায়াম : নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করতে হবে। যেমন,
ক) মাথার পিছনে হাত দিয়ে তা আস্তে আস্তে ঠেলতে হবে এবং এক থেকে ১০ গুনতে হবে।
খ) থুতনি নামিয়ে গলার কাছে বেশ কিছুক্ষণ ধরে রাখতে হবে এবং এক থেকে ১০ গুনে আবার মুখ তুলে নিতে হবে।
গ) মাথার এক পাশে হাত দিয়ে অন্যদিকে কাত করে এক থেকে ১০ গুনতে হবে, ফের অন্যদিকে একই পদ্ধতিতে করতে হবে ।
এগুলো অভ্যেস করলে আরাম পাওয়া সম্ভব।

২. নিম : নিমের মধ্যে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি বেশি থাকায় নিমজল সেবন বা নিমপাতা সেবন এবং নিমজলের সেক দিয়ে এই ব্যথার উপশম পেতে পার।

৩. বডি মুভমেন্ট : সারাদিনে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটতে হবে, সঙ্গে বেশ কিছু ফ্রি হ্যান্ডস, জাম্পিং জ্যাক, পুশআপ এগুলো করা উচিত। এক জায়গায় বসে থাকলে ব্যথা ফিরে আসার এবং বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
শরীরকে ভাল রাখতে, সুস্থ রাখতে এই বিষয়গুলো একবার ট্রাই করা যেতেই পারে, তাই না?