ভুল ভঙ্গিতে বসছেন? ঘাড় ও পিঠের ব্যথার কারণ হতে পারে আপনার কর্মস্থলের চেয়ার-টেবিল

ছোটবেলায় স্কুলের শারীরিক শিক্ষা ক্লাসে সোজা হয়ে বসার জন্য শিক্ষকরা বারবার তাগিদ দিতেন। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পর বইয়ের বদলে কম্পিউটার আর বেঞ্চের বদলে চেয়ার-টেবিল এলেও আমাদের বসার ভঙ্গিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে ঘাড়, পিঠ ও মেরুদণ্ডের ব্যথাসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন অসংখ্য মানুষ। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং সুস্থ থাকতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করা অপরিহার্য।

চেয়ারে বসার সঠিক নিয়ম:
ভুল ভঙ্গিতে বসার কারণে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চেয়ারে সোজা হয়ে বসা উচিত, ঘাড় বা পিঠ কোনোভাবেই বাঁকানো যাবে না। টেবিলকে চেয়ার থেকে এমন দূরত্বে রাখতে হবে যাতে বাহুগুলো মেরুদণ্ডের সমান্তরাল থাকে। চেয়ারের সঙ্গে পিঠের নিচের অংশের কোনো ফাঁকা জায়গা রাখা যাবে না।

কম্পিউটার ব্যবহারের সময়: কম্পিউটারের মনিটর চোখের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চতায় রাখতে হবে, যাতে ওপর বা নিচে তাকানোর জন্য ঘাড় বাঁকাতে না হয়। এর ফলে চোখের ওপর চাপ কমবে। কিবোর্ড বা মাউস ব্যবহারের সময় আঙুল থেকে কনুই পর্যন্ত পুরো অংশ টেবিলে আরামদায়কভাবে রাখতে হবে, যা হাতের স্ট্রেস এবং কব্জির ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

পড়ার সময়: দীর্ঘক্ষণ পড়ার সময় পিঠ বাঁকিয়ে টেবিলের উপর ঝুঁকে পড়া যাবে না। এক্ষেত্রে পড়ার কোণটি প্রায় ৩০ ডিগ্রি হলে পিঠের ব্যথা এড়ানো সম্ভব।

হাত-পায়ের অবস্থান: বসার সময় কাঁধ এবং পিঠ শিথিল রাখতে হবে। হাত কব্জি পর্যন্ত টেবিলে রেখে কাজ করলে কার্পাল টানেল সিনড্রোম (কব্জির স্নায়ুর সমস্যা) এড়ানো সম্ভব। পা বাঁকা না করে মেঝেতে সম্পূর্ণ সমান্তরালভাবে রাখা জরুরি।

মাঝে মাঝে বিরতি:
যতই আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসা হোক না কেন, দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর পর চেয়ার ছেড়ে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করা এবং শরীরকে স্ট্রেচ করা উচিত। এতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং ঝিমুনি ভাব আসে না।

সঠিক চেয়ারের গুরুত্ব:
সঠিক বসার ভঙ্গির জন্য উপযুক্ত চেয়ারও গুরুত্বপূর্ণ। এমন চেয়ার ব্যবহার করা উচিত, যা পিঠ ও মেরুদণ্ডকে ভালোভাবে সাপোর্ট দেয়। চেয়ারের আকার ও উচ্চতা সঠিক না হলে তা বসার ভঙ্গি নষ্ট করে এবং শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।

এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে ঘাড়, পিঠ এবং মেরুদণ্ডের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, যা আমাদের কর্মজীবনে আরও বেশি কর্মক্ষম করে তুলবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy