ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট নয়, প্লেটেই থাকুক সুস্থতার চাবিকাঠি!

টানা কাজ করে ক্লান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক, মাঝেমাঝে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে এমনটা হবেই। অনেকে তাই এই ঘাটতি পূরণের মাধ্যম হিসেবে ভিটামিন সাপ্লিমেন্টস বেছে নেন। মেয়েদের ক্ষেত্রে ত্রিশের পর থেকে নানারকম সমস্যা তাদের পিছু ছাড়ে না, যার মধ্যে ভিটামিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা অনেক বেশি।
তবে ডায়েটারি গাইডলাইনস অফ আমেরিকা বলছে, “আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলো নিত্যদিনের প্রাথমিক খাবার থেকেই আমাদের সংগ্রহ করা উচিত। সাপ্লিমেন্টসের অতিরিক্ত ও দীর্ঘকালীন ব্যবহার শরীরে সোডিয়াম ও অন্যান্য লবণের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।”
সাপ্লিমেন্টে ভরসা না রেখে বরং নিয়মিত বাজার থেকে কিছু চেনা শাকসবজি, মাছ, প্রাণিজ খাবার কিনলে আপনি শরীরকে সহজেই চাঙ্গা করে নিতে পারবেন।
আপনার প্লেটে থাকুক প্রয়োজনীয় ভিটামিন:
ভিটামিন এ: যাদের ত্বক খসখসে, ত্বকের সমস্যায় অনেকদিন ধরে ভুগছেন, চোখের দৃষ্টিশক্তি দুর্বল, ভিটামিন এ কিন্তু তাদের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে নিশ্চিতভাবে। যেকোনো সবুজ শাকসবজি ছাড়াও গাজর, পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ উপস্থিত। যারা আমিষাশী, তাদের জন্য রয়েছে ডিমের কুসুম। ভিটামিন এ-র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ এবং বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধেও এর অবদান আছে।
ভিটামিন বি: অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন লোকের সংখ্যা অনেক। এর জন্য কিন্তু ভিটামিন বি-এর ঘাটতি দায়ী। বি১২-এর অভাব এর মূল কারণ। ভিটামিন বি-ও পাওয়া যায় প্রতিদিনের খাবারে। মটরশুঁটি, পাকা কলা, অঙ্কুরিত ছোলা, আটার রুটি, বার্লি, ডাল, সবজিতে ভিটামিন বি খুব সহজেই পাওয়া যায়। শাকসবজিতে যারা নাক কুঁচকান, তাদের জন্য আছে ডিম, মাছ, দুধ।
ভিটামিন সি: নিয়ম করে প্রতিদিন লেবু খেতে পারেন। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধক শক্তি বাড়ে। রোদ কিংবা জলের কারণে সহজেই শরীর খারাপ হয়ে যাওয়া কিন্তু ভিটামিন সি-এর অভাবের লক্ষণ। আর সেটা মেটাতেই দরকার সাইট্রিক অ্যাসিড যা পাবেন পাতিলেবু থেকে। এছাড়াও আমলকী, পেয়ারা, কমলালেবু থেকেও পাবেন। এগুলো সবই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, ত্বককেও ভালো রাখে।
ভিটামিন ডি: মহিলাদের হাড়ের সমস্যা, থাইরয়েডের সমস্যা তো খুব সাধারণ ব্যাপার। ভিটামিন ডি-এর অভাবই এর জন্য দায়ী। অল্পতেই দুশ্চিন্তা হওয়া, ঘাম হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়ার পিছনেও একই কারণ। ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সবুজ টাটকা সবজি, ডিমের কুসুম, মাখন-এ।
ভিটামিন ই: রক্তে আয়রন কমে যাচ্ছে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে? ভিটামিন ই আপনার শরীরে কম। যে রান্নার তেল কেনেন, তাতেই আপনি পেতে পারেন শরীরের এই প্রয়োজনীয় সদস্যকে। বাদাম নিয়ম করে খেলে এ ধরনের রোগ আর ছুঁতে পারবে না আপনাকে। কারণ বাদামেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মেলে এই উপকরণটি।
সাপ্লিমেন্ট কি একেবারেই বাদ দেবেন?
পাঁচ রকম প্রয়োজনীয় ভিটামিন যা আপনার প্রতিদিন প্রয়োজন, তার উৎসগুলো আপনার নাগালের মধ্যেই। শুধু দরকার নিয়ম করে সাপ্লিমেন্টের বদলে সেগুলোকে থালায় সাজিয়ে নেওয়া। তাই বলে কি সাপ্লিমেন্ট একেবারেই লাগে না? লাগে, তবে কিছু বিশেষক্ষেত্রে। কোনো বিশেষ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বন্ধ হলে ডাক্তারের পরামর্শে আপনাকে সাপ্লিমেন্টের পথ বাছতেই হবে।
কারা সাপ্লিমেন্ট খাবেন?
গর্ভবতী মহিলাদের যেমন ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট নেওয়া খুব প্রয়োজনীয়।
বাচ্চারা যারা এসব শাকসবজি খেতে চায় না, বা একেবারে শিশুরা যারা এ ধরনের খাবার খেতে পারে না, তাদের জন্য সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন থেকেই যায়। অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সব খাবারই তরল করে নিয়ে শিশুদের খাওয়ান যা সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন মিটিয়ে দেয় অনেকাংশে।
যারা গায়ে রোদ না লাগার মতো কাপড় পরেন, বাড়ি থেকে বেরোতে পারেন না নানা কারণে, ভিটামিন ডি-এর সাপ্লিমেন্ট না নিলে তাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
কিন্তু একজন সাধারণ সুস্থ মানুষকে তার প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলো পেতে সাপ্লিমেন্ট নিতে হয় না। এমনটাই মত বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের। কিছু সাপ্লিমেন্টে লবণের আধিক্য শরীরের ক্ষতিও করে। এতে হিতে বিপরীত হয়। তাই সুস্থ জীবনের জন্য প্রথমেই ভিটামিন সাপ্লিমেন্টস-এর কথা না ভেবে রান্নার রকমফের নিয়ে ভাবতে পারেন।