বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সে ত্বকের অন্যতম পরিচিত সমস্যা হলো ব্রণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকেই সেরে যায়, কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই ব্রণ দীর্ঘমেয়াদী হয়ে ওঠে এবং বহু চেষ্টা করেও এর থেকে মুক্তি মেলে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ভুল অভ্যাস এবং জীবনযাত্রার কারণে ব্রণর সমস্যা জিইয়ে থাকতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, হাজার চেষ্টার পরেও ব্রণ না কমার প্রধান কারণগুলো কী কী:
১. ব্রণ খোঁটা বা বারবার স্পর্শ করা:
অনেকেরই ব্রণ খুঁটে ফেলার বাজে অভ্যাস থাকে। যখনই আপনি ব্রণ স্পর্শ করেন বা মুখ ঘষাঘষি করেন, তখন ব্রণের জীবাণু ত্বকের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ব্রণ তো কমেই না, উল্টে আরও বেড়ে যায় এবং নতুন করে ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া, ব্রণ খুঁটলে ত্বকে স্থায়ী দাগ বা ক্ষত তৈরি হতে পারে।
২. ঘন ঘন রূপটানের সামগ্রী পরিবর্তন:
বারবার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বা ধরনের রূপটানের সামগ্রী (ত্বকের প্রসাধনী) পরিবর্তন করলে ত্বকে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে, হরেক রকমের প্রসাধনী একই সঙ্গে ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, ত্বকেরও ক্ষতি হয় এবং ব্রণর সমস্যা বেড়ে যায়। প্রতিটি প্রসাধনীর রাসায়নিক উপাদান ত্বকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা ব্রণর কারণ হয়।
৩. প্রসাধনীর অতিরিক্ত ব্যবহার:
ত্বকের যত্নে অনেকেই বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজার, ক্লিনজার কিংবা এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করেন। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও ময়লা দূর করতে এগুলি বেশ কার্যকরী। কিন্তু যেকোনো প্রসাধনীই ব্যবহার করতে হবে যথাযথ পরিমাণে। এর অতিরিক্ত ব্যবহার করলে এই উপাদানগুলিই ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে বা ত্বকে জ্বালাতন সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে ব্রণ বেড়ে যায়।
৪. দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রভাব:
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনযাপন পদ্ধতিও অনেক সময় ব্রণ না কমার কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত তেলমশলাযুক্ত খাবার গ্রহণ, অলস জীবনযাপন, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অনিদ্রা এবং মানসিক চাপ – এই সবকিছুই ব্রণর সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ত্বকের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় বাধা দেয়, যার ফলে ব্রণর প্রকোপ বাড়ে।
সুতরাং, যদি আপনার ব্রণর সমস্যা কিছুতেই না কমে, তবে এই কারণগুলো খতিয়ে দেখা উচিত এবং প্রয়োজনে একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক অভ্যাস এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী ব্রণর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।