বিষণ্ণতা: এক নীরব ঘাতক, যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ!

বিষণ্ণতা, যা সাধারণত ‘ডিপ্রেশন’ নামেই পরিচিত, আজও আমাদের সমাজে একটি রোগ হিসেবে পুরোপুরি স্বীকৃতি পায়নি। অনেকেই এটিকে নিছকই মনের দুর্বলতা বা সাময়িক মন খারাপ হিসেবে দেখেন, অথচ এটিই নিতে পারে এক ভয়াবহ রূপ, যা রোগীকে ঠেলে দিতে পারে মৃত্যুর মুখে। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন যে, মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক চিকিৎসা না হলে এর অন্তিম পরিণতি হতে পারে অকাল মৃত্যু। পরিসংখ্যানও এই ভয়ঙ্কর বাস্তবতার সাক্ষী – বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে ১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেন এই বিষণ্ণতার কারণেই!

মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নানা কারণে অবসাদ, হতাশা আর দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হয়। যখন মুক্তির কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন রোগী জীবনবিমুখ হয়ে ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

সমাজের চোখে ‘পাগলামি’ নয়, এটিও একটি রোগ
যে কেউ যখন-তখন এই বিষণ্ণতার ফাঁদে পড়ে যেতে পারেন। কিন্তু সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এর চিকিৎসা করাতেই মানুষ বিপাকে পড়েন। বহু পরিবারে দেখা যায়, সন্তানকে মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে, অথচ সেই পরিচয় গোপনই রাখতে হচ্ছে। কারণ, বিষণ্ণতা এ সমাজে আজও রোগের স্বীকৃতি পায় না, বরং পেয়ে গেছে ‘পাগলামি’র অপবাদ। এই সামাজিক ট্যাবু মানসিক রোগীদের আরও কোণঠাসা করে দেয় এবং তাদের সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার পথ কঠিন করে তোলে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, “১৪ বছর বয়সের আগে ৫০% মানসিক রোগ শুরু হয়, আর ২৫ বছরের আগে ৭৫% মানসিক রোগ শুরু হয়। ফলে তরুণ-তরুণীরাই বেশি মানসিক রোগে ভুগে থাকে।” এটি প্রমাণ করে যে, ছোটবেলা থেকেই মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া কতটা জরুরি।

উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ বিষাদগ্রস্ততার কারণে মারা যাচ্ছেন। আমাদের দেশেও সংখ্যাটা কম নয়। ডিপ্রেশনে ভুগে প্রতি বছর কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ আত্মহননের পথে পা বাড়ান। বিষণ্ণতায় ভোগা প্রতি ১০০ জনে ৩ জনই আত্মহত্যার পথকে মুক্তির একমাত্র উপায় বলে মনে করেন।