আপনার কি কিছুদিন পরপরই মুখের ভেতরে ঘা হচ্ছে? অনেকেই হয়তো এই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না! তবে জানলে অবাক হবেন, এই সামান্য ঘা-ও হতে পারে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ!
ডায়াবেটিস শরীরে বাসা বাঁধলে ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় রক্তপ্রবাহে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়। শুধু মুখের ঘা নয়, ডায়াবেটিস হলে এর পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরি।
ডায়াবেটিস হলে মুখে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়:
দাঁতে গর্ত ও দাঁত পড়ে যাওয়া: রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে দাঁতে ছোট ছোট গর্ত দেখা দিতে পারে। এমনকি সময়মতো চিকিৎসা না করালে দাঁত পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
মাড়িতে জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাব: মাড়িতে জ্বালাপোড়া করা অথবা মাড়ির রং লালচে হয়ে যাওয়াও একটি আশঙ্কাজনক লক্ষণ। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দাঁত আলগা হয়ে যাওয়া ও ক্ষয়: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে দাঁতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাড়ির চারপাশে প্লাক (ব্যাকটেরিয়ার স্তর) জমার কারণে দাঁত আলগা হতে শুরু করে। এর ফলে দাঁতের ক্ষয় হতে পারে এবং দাঁত দুর্বল হয়ে যায়।
বারবার গলা শুকিয়ে যাওয়া: ডায়াবেটিসের আরেকটি অন্যতম লক্ষণ হলো ঘন ঘন গলা শুকিয়ে যাওয়া। জিভের মধ্যে লালারসের পরিমাণ কমে গেলে এই ধরনের সমস্যা হতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
মুখে ঘা হওয়া: মুখের ভেতরে, জিভে বা মাড়িতে বারবার ঘা হওয়াও ডায়াবেটিসের একটি ইঙ্গিত হতে পারে। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে এই ঘা সহজে সারতে চায় না।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?
উপরের লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি যদি আপনার মধ্যে দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন। দাঁতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং মুখের ভেতরে ঘা হওয়ার কারণ নির্ণয় করা জরুরি। যদি ডেন্টিস্টের সন্দেহ হয়, তাহলে তিনি আপনাকে রক্ত পরীক্ষা করে ডায়াবেটিস নিশ্চিত করার পরামর্শ দিতে পারেন।
যদি রক্ত পরীক্ষায় ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, তাহলে অবশ্যই একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন। ডাক্তারের দেওয়া নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলুন এবং নিয়মিত ওষুধ খান।
একইসঙ্গে মুখের ভেতর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা এবং মাউথওয়াশ ব্যবহার করা জরুরি। এতে দাঁত ও মাড়ির নানা সমস্যা যেমন কমবে, তেমনই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক হবে। মনে রাখবেন, মুখের স্বাস্থ্য আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কোনো রকম অস্বাভাবিকতা দেখলে অবহেলা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।