ওড়িশা, অসম, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানার মতো একাধিক রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে, এমনকি দিল্লিতে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই গুরুতর পরিস্থিতিতে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন এবং ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, তখন এই প্রসঙ্গে মুখ খুলতে রাজি হলেন না প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
সৌরভের নীরবতা: ‘বাইরের রাজ্যে কী হচ্ছে, আমার জানা নেই’
বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) এই বাঙালি-হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। বাংলার বহু খেলোয়াড় কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে যান, সেই প্রসঙ্গ টেনে সৌরভকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন, “আমি বাংলায় বড় হয়েছি। কলকাতায় বড় হয়েছি। এই রাজ্যেই আমার সব কিছু। আমি আমারটা বলতে পারি। এর বাইরে কোথায় কী হয়েছে, আমার জানা নেই।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই ইস্যুতে প্রতিবাদ করছেন, সেখানে সৌরভের মতো একজন আইকনিক ব্যক্তিত্বের এমন অবস্থান অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ঠেকেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ও ভাষা আন্দোলনের ডাক
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে জেলাশাসকদের কাছে চিঠি এসেছে, যেখানে মালদহ, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সাধারণ মানুষকে বেছে বেছে সংকটে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বাঙালি হেনস্থার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৭শে জুলাই নানুর দিবস-এর পর থেকে এই ভাষা আন্দোলন শুরু হবে এবং তা টানা চলবে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি বাঙালিকে হেনস্থা করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চান।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
রাজ্যের শাসক দল এই বিষয়টিকে ‘বাঙালির সম্মান’-এর প্রশ্ন হিসেবে দেখছে এবং এর বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা এবং আন্দোলনের ডাক এই বিষয়টিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। অন্যদিকে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের নীরবতা, বিশেষ করে যখন বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তখন এই নীরবতা বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বাঙালি পরিচয় এবং তার উপর আক্রমণের অভিযোগ একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠছে।





