বর্ষার আনন্দ নাকি অসুস্থতার বিপদ? মৌসুমি জ্বর এড়াতে সতর্ক থাকুন

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টায় হঠাৎ বৃষ্টি যেন নিত্যসঙ্গী। কখনো এর ছোঁয়া মন ভরিয়ে তোলে, আবার কখনো হয়ে ওঠে অস্বস্তি ও বিপদের কারণ। অনেক সময় ইচ্ছা না থাকলেও বৃষ্টিতে ভিজতে হয়, আর তারপরই শুরু হয় সেই চিরাচরিত চিন্তা— ‘এই বুঝি জ্বর এল!’ বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে একটু সাবধানতা মেনে চললেই সহজেই এই মৌসুমি জ্বর-সর্দি-কাশি এড়ানো সম্ভব।

বৃষ্টিতে মৌসুমি জ্বরের ঝুঁকি কেন বাড়ে?
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময়, বিশেষ করে ঠান্ডা-গরমের তারতম্যের কারণে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে যায়। তার উপর বৃষ্টির জল ও বাতাসে থাকা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াগুলি সহজেই শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর ফলস্বরূপ হাঁচি-কাশি, সর্দি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, এবং জ্বর ইত্যাদির প্রকোপ বাড়ে। এটি এক ধরনের ভাইরাসজনিত জ্বর, যা সাধারণত ঋতু পরিবর্তনের সময় দেখা যায়।

কীভাবে থাকবেন নিরাপদ?
বৃষ্টির দিনে সুস্থ থাকতে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি:

সাজ সরঞ্জাম: বাইরে বের হলে সবসময় ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখুন।

পোশাক পরিবর্তন: বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত ভেজা পোশাক বদলান এবং চুল ভালো করে মুছে নিন।

হালকা উষ্ণতা: হালকা গরম জল দিয়ে স্নান করলে শরীর সতেজ থাকে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

উষ্ণ পানীয়: গলা ব্যথা বা ঠাণ্ডা লাগার অনুভূতি হলে আদা-লেবুর চা, গরম দুধ, বা সুপ পান করলে আরাম লাগবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন এবং মশার বিস্তার রোধ করুন, কারণ মশাবাহিত রোগেও জ্বর হতে পারে।

ভাইরাসজনিত জ্বর ও মশাবাহিত রোগের সুরক্ষা
মশাবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা: ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করুন, কারণ এডিস মশা দিনের বেলা কামড়ায়। মশার কয়েল, অ্যারোসল বা ধূপ ব্যবহারের সময় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত হলে করণীয়: যদি মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত হন, তবে রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে দিন। প্রচুর পরিমাণে তরল পানীয় যেমন – ডাবের জল, স্যালাইন, ফলের রস ইত্যাদি রোগীকে পান করান। জ্বর বেশি থাকলে কপালে জলপট্টি দিন। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা, লেবু, আমড়া বেশি করে খান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
বেশিরভাগ মৌসুমি জ্বর সাধারণত ৩-৫ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে, যদি জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয় (পাঁচ দিনের বেশি) অথবা এর সাথে অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ যেমন – তীব্র মাথাব্যথা, শরীরে র‍্যাশ, শ্বাসকষ্ট, পেটে ব্যথা, বা জন্ডিসের লক্ষণ দেখা যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, এই ধরনের লক্ষণ টাইফয়েড, নিউমোনিয়া বা জন্ডিসের মতো গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে বরং সচেতন থাকুন এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলুন। আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy