ফ্রিজে রাখবেন না এই খাবারগুলি, হারাতে পারে স্বাদ ও পুষ্টি

কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই সাপ্তাহিক বাজার সেরে এনে ফ্রিজে স্তূপ করে রাখেন, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়। তবে, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয় যে ফ্রিজে রাখলে সব খাবারই ভালো থাকে। প্রথম দু’একদিন খাবার স্বাভাবিক মনে হলেও, এরপর ধীরে ধীরে স্বাদ ও গুণমান দুটোই কমতে শুরু করে।
এমন কিছু খাবার আছে যা ফ্রিজে রাখা একেবারেই উচিত নয়। এতে তাদের প্রাকৃতিক স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই খাবারগুলি কী কী:
বাদাম এবং ড্রাই ফ্রুটস: বাদাম এবং কিশমিশের মতো শুকনো ফল ফ্রিজে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। এগুলো বায়ুরোধী পাত্রে ভরে সাধারণ তাপমাত্রাতেই অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখলে এদের মচমচে ভাব চলে যেতে পারে।
মধু এবং জ্যাম: মধু ফ্রিজে রাখলে জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে যায়, যা ব্যবহার করতে অসুবিধা সৃষ্টি করে। তাই মধু ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখাই শ্রেয়। অন্যদিকে, জ্যাম এবং জেলিতে প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ থাকায় এগুলো ফ্রিজের বাইরে রাখলেও নষ্ট হয় না।
আচার: আচার তৈরিতেও প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। তাই এটি ফ্রিজের বাইরে একটি শুকনো ও বাতাস চলাচলকারী স্থানে রাখলে দীর্ঘদিন তাজা থাকে।
কফি: কফি তার সুগন্ধ এবং স্বাদ ধরে রাখার জন্য এয়ার টাইট পাত্রে রাখা উচিত। ফ্রিজে রাখলে কফি জমাট বাঁধতে পারে এবং এর স্বাদও নষ্ট হয়ে যায়। তাই কফি সবসময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখুন।
রসুন: রসুন ফ্রিজে রাখলে তার তীব্র গন্ধ চলে যায় এবং এটি খুব তাড়াতাড়ি নরম হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। রসুন কাগজের প্যাকেটে ভরে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা উচিত।
সস: ভিনেগার এবং প্রিজারভেটিভ থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের সস যেমন টমেটো সস, চিলি সস ইত্যাদি ফ্রিজের বাইরে রাখলেও ভালো থাকে। সয়া সসও সাধারণ তাপমাত্রায় অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
টমেটো: টমেটো ফ্রিজে রাখলে তার প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট হয়ে যায় এবং এটি পানসে লাগতে পারে। তাই টমেটো বাজার থেকে আনার পর ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন এবং বাতাস চলাচল করে এমন কোনো স্থানে রাখুন।
পেঁয়াজ: পেঁয়াজ সবসময় খোলা জায়গায় রাখাই ভালো। ফ্রিজে রাখলে পেঁয়াজ খুব তাড়াতাড়ি নরম ও ভেজা ভেজা হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, খোলামেলাভাবে রাখলে ফ্রিজের অন্যান্য খাবারেও পেঁয়াজের দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। তবে, আলু এবং পেঁয়াজ কখনোই একসঙ্গে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে দুটোই তাড়াতাড়ি পচে যেতে পারে।
আলু: আলু ফ্রিজের ঠান্ডায় রাখলে এর ভেতরের স্টার্চ বা শর্করা ভেঙে চিনিতে পরিণত হয়। ফলে আলুর স্বাদ মিষ্টি হয়ে যায় এবং এটি রান্না করার সময় ভালোভাবে সেদ্ধও হতে চায় না। আলু সবসময় ঝুড়িতে ভরে কোনো ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় রাখা উচিত।
কলা: কলা একটি গ্রীষ্মকালীন ফল এবং এটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই ধীরে ধীরে পাকে। ফ্রিজে রাখলে কলার খোসা খুব তাড়াতাড়ি কালো হয়ে যায়, যদিও ভেতরের অংশ তুলনামূলকভাবে ঠিক থাকে। তাই কলা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সুতরাং, আপনার ফ্রিজকে অতিরিক্ত বোঝাই না করে এবং খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে এই খাবারগুলো ফ্রিজের বাইরে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করুন।