স্বপ্নভঙ্গের বেদনা বুকে নিয়েই ১২ বছরের বর্ণময় অধ্যায়ে ইতি! এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় নিয়ে কী বললেন সিন্ধু?

টানা ম্যাচ ও বিশ্রামের চরম অভাবে জর্জরিত হয়ে এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় নিলেন ভারতের জোড়া অলিম্পিক পদকজয়ী তারকা পিভি সিন্ধু। রবিবার চিনের শক্তিশালী শাটলার চেন ইউ ফেইয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে লড়াই করে হার মানতে হয়েছে তাঁকে। আর এই হারের পরেই টুর্নামেন্টের খামখেয়ালি ও চূড়ান্ত অব্যবস্থার সূচি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের পোস্টার গার্ল। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, মাত্র ১৮ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে তাঁকে পরপর তিনটি কঠিন ম্যাচ খেলতে বাধ্য করা হয়েছে, যার ফলে কোর্টে তিনি চরম শারীরিক ক্লান্তি ও ক্লান্তির শিকার হয়েছেন।
শনিবারের রাতের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সিন্ধু জানান, প্রথম ম্যাচ এমনিতেই দেরিতে শুরু হয়েছিল, যার পর দ্বিতীয় খেলাটি আচমকাই অন্য কোর্টে স্থানান্তরিত করা হয়। সেই ম্যারাথন লড়াই শেষ হতে হতে ঘড়ির কাঁটায় রাত ১টা বেজে যায়। এরপর দীর্ঘ রাত পেরিয়ে হোটেলে ফিরে খাওয়া-দাওয়া ও রিকভারি সেশন সেরে ঘুমাতে ঘুমাতেই ভোর ৩টে বেজে যায়। অথচ পরদিন সকালে মাত্র সাড়ে আটটায় তাঁকে ফের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্য কোর্টে নামতে হয়।
এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্টে নিজের হতাশা উগরে দিয়ে সিন্ধু লেখেন, “কথাগুলো গুছিয়ে লিখতে একটু সময় লাগল। আমার এশিয়ান গেমস অভিযান শেষ, এবং আমি গভীরভাবে আহত। কোয়ার্টার ফাইনাল জয় থেকে আমি মাত্র তিন পয়েন্ট দূরে ছিলাম।” চিনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম গেমে ২১-১১ ব্যবধানে অনবদ্য জয় ছিনিয়ে নিলেও পরের দুটি গেমে যথাক্রমে ১৮-২১ এবং ১০-২১ ব্যবধানে হেরে যান তিনি। আক্ষেপের সুরে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বারবার ওই তিনটে পয়েন্টের কথায় ফিরে যাচ্ছি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর র্যালিগুলোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।”
আয়োজকদের অব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি লেখেন, “১৮ ঘণ্টায় তিনটে ম্যাচ খেলা এবং রাত ৩টেয় ফিরে সকাল সাড়ে আটটায় ফের খেলতে নামা—এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শরীরে।” তবে এই পরাজয়ের মধ্যেও খেলার প্রতি তাঁর জেদ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি অটুট রয়েছে বলে জানান তিনি। ২০১৪ সালের প্রথম এশিয়ান গেমসের অভিষেক থেকে শুরু করে বর্তমানের চতুর্থ আসর পর্যন্ত—এই সুদীর্ঘ ১২ বছরের বর্ণময় যাত্রার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “একটা যন্ত্রণাদায়ক ফল এত বড় একটা যাত্রাকে কখনও সংজ্ঞায়িত করতে পারে না।” উল্লেখ্য, শুধু সিন্ধুই নন, এই অমানবিক সূচি ও অপরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার জোনাথন ক্রিস্টি, জাপানের কোডাই নারাওকা এবং চিনের তান নিংয়ের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তারকারাও।