ফুচকার তেঁতুল জলে মজেছেন? স্বাদের সঙ্গে দাঁতের ক্ষতি করছেন না তো!

তেঁতুলের জল ছাড়া ফুচকা যেন অসম্পূর্ণ। তেঁতুল না থাকলে স্বাদটাই যেন মিছে হয়ে যায়। তেঁতুল মুখে দিলে তো বটেই, অনেকের আবার তেঁতুলের নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে। মোট কথা, ফুচকা, পাপড়ি চাট-এর মতো খাবারের স্বাদ বাড়াতে তেঁতুলের জুড়ি মেলা ভার। যারা টক খেতে ভালোবাসেন, তেঁতুল তাদের কাছে যেন স্বর্গ!

চিকিৎসকরা মনে করেন, তেঁতুল খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর নয়, বরং এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কিন্তু শরীরের যত্ন নিলেও, দাঁতের জন্য কি তেঁতুল আদৌ স্বাস্থ্যকর?

তেঁতুলের গুণাগুণ
চিকিৎসকদের মতে, তেঁতুলে রয়েছে ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি৩, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। এই উপাদানগুলো শরীরের ভেতরের অনেক সমস্যা নিমিষেই সমাধান করে। এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট গুণ মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষ সচল রাখতেও সহায়তা করে। এছাড়াও, তেঁতুল নানা ধরনের সংক্রমণের বীজ সমূলেই বিনষ্ট করে। শরীরের কিছু সমস্যার সমাধানে তেঁতুল সত্যিই সিদ্ধহস্ত।

তেঁতুলের খারাপ দিক: দাঁতের এনামেলে বিপদ!
সব কিছুর ভালো এবং খারাপ দুটি গুণই থাকে, তেঁতুলও এর ব্যতিক্রম নয়। তেঁতুলে অম্লের পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে মাত্রাতিরিক্ত হারে তেঁতুল খাওয়ার ফলে অ্যাসিড পাচনতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া, অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে তেঁতুল খেলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তেঁতুলে থাকা অ্যাসিডের কারণে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।

আর এই তেঁতুলের অ্যাসিডই দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে দেয়। এনামেল হলো দাঁতের বাইরের এবং সবচেয়ে শক্ত স্তর, যা দাঁতকে সব ধরনের জীবাণু থেকে রক্ষা করে। দাঁত ভালো থাকে এই এনামেলের গুণের ওপর। তেঁতুল সেই এনামেলেই আঘাত করে এবং ক্রমশ ক্ষয় করতে থাকে।

সমাধানের উপায়
যদি একান্তই তেঁতুল খেতে হয়, তাহলে খাওয়ার পরেই দাঁত মেজে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। খুব ভালো হয় যদি একবার নুন গরম জল দিয়ে কুলকুচি করা যায়। এটি অনেক বেশি উপকারী। এই অভ্যাসটি তেঁতুলের অম্লের প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে এবং দাঁতের এনামেলকে রক্ষা করবে।