ফল খান, খোসা রাখুন! ফেসিয়ালের পরেও কাজে লাগবে এই জাদু!

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে শুধু দামি ফেসিয়াল যথেষ্ট নয়। ভেতর থেকে ঔজ্জ্বল্য আনতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল যোগ করুন। লেবু জাতীয় ফল ও বাদাম এক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী।

তবে শুধু ফল খাওয়াই যথেষ্ট নয়! ফল খাওয়ার পর এর খোসাগুলো ফেলে না দিয়ে তুলে রাখুন। অবাক হচ্ছেন? ফেসিয়াল করার পরেও এই ফলের খোসাগুলো আপনার ত্বকের যত্নে এক দারুণ ভূমিকা নিতে পারে। অর্থাৎ, ফল খাওয়ার পাশাপাশি ফলের খোসা ব্যবহার করে আপনি সেরে ফেলতে পারেন ঘরোয়া রূপচর্চা।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কিছু পরিচিত ফলের খোসার জাদুকরী গুণাগুণ:

কমলালেবুর খোসা: ভিটামিন সি-তে ভরপুর কমলালেবুর খোসায় রয়েছে প্রাকৃতিক তেল। এটি ব্রণ ও দাগছোপ দূর করতে সহায়ক এবং ত্বকের কোলাজেন গঠনে সাহায্য করে। কমলালেবুর খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এরপর দইয়ের সঙ্গে এই গুঁড়ো মিশিয়ে মুখে মাখতে পারেন।

পাতিলেবুর খোসা: কমলালেবু সারা বছর নাও পাওয়া যেতে পারে, তবে পাতিলেবু সহজেই মেলে। পাতিলেবুর খোসায় থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড, যা ত্বককে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা এনে দেয় এবং অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে সাহায্য করে। লেবুর খোসা গুঁড়ো করে মধুর সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান, ফল পাবেন হাতেনাতে।

কলার খোসা: কলার খোসায় ভিটামিন এ, বি এবং সি বিদ্যমান, যা ত্বকের প্রাকৃতিক জেল্লা বৃদ্ধি করে। ত্বকের উপর কলার খোসা ঘষলে ত্বক ময়েশ্চারাইজ হয় এবং দাগছোপও ধীরে ধীরে দূর হয়। পাকা কলার খোসা সরাসরি মুখের উপর ঘষতে পারেন।

পেঁপের খোসা: পাকা পেঁপে যেমন মুখের জেল্লা বাড়াতে সহায়ক, তেমনই পেঁপের খোসাও ভিটামিনে পরিপূর্ণ। এটি ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে। পেঁপের খোসা নিয়ে সরাসরি মুখের উপর ৫-১০ মিনিট ঘষুন। এটি ত্বকের মৃত কোষ এবং ওপেন পোরসের সমস্যা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকর।

কিউই ফলের খোসা: নিখুঁত ত্বক পেতে কিউই ফলের খোসাও ব্যবহার করা যেতে পারে। কিউই খোসা মিক্সিতে বেটে নিন। এরপর এর সাথে দই মিশিয়ে ত্বকের উপর লাগান। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললেই আপনি পাবেন এক উজ্জ্বল ত্বক।

তাহলে দেখলেন তো, ফল খাওয়ার পাশাপাশি তার খোসাগুলোও কত কাজের! এবার থেকে আর ফলের খোসা ফেলে দেবেন না। প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নিন আর পান স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক।