প্রেমে অন্ধ হবেন না, সঙ্গীর স্বার্থপরতা ও লালসা বোঝার উপায়!

‘প্রেমে পড়লে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়’— এই প্রবাদ বাক্যটি প্রায়শই সত্য প্রমাণিত হয়। প্রিয়জনের মনে কী চলছে, তা অনেকেই টের পান না। আর একটি সুন্দর ও সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে সঙ্গীর ব্যক্তিত্ব কেমন, তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অনেকেই কেবল নিজেদের লোভ বা লালসা চরিতার্থ করার জন্য সম্পর্কে জড়ান, যেখানে ভালোবাসার চেয়ে স্বার্থপরতাই বেশি থাকে।
এর ফলস্বরূপ ধীরে ধীরে সম্পর্ক নষ্ট হতে থাকে। একে অপরের প্রতি রাগ, লালসা এবং দেখানো ভালোবাসা সম্পর্ককে ঘিরে থাকে। সঙ্গীর স্বার্থপরতা ও লালসা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই প্রথম দিকে বুঝতে পারে না। তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন, আপনার সঙ্গী আপনাকে মন থেকে ভালোবাসেন না।
১. হঠাৎ করে প্রেম
প্রেমে মানুষ হুটহাট করেই পড়ে থাকে, তবে হঠাৎ করে শুরু হওয়া সম্পর্কে ভালোবাসা বা সততা কম থাকে। আপনি যাকে ঠিকমতো চেনেন না বা যার সম্পর্কে কোনো খোঁজ নেননি, এমন ক্ষেত্রে সম্পর্ক গড়ে তোলা ঠিক নয়। দুটি মানুষের মনের মিল এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলেই একে অপরকে ভালোবাসা যায়। সত্যিকারের ভালোবাসা জন্মাতে কিছুটা সময় লাগে। তাই একদিনের দেখা বা পরিচয়ে একে অপরকে অনেক উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করা যায় না।
২. ফোন কল বা টেক্সট ব্যাক না করা
সঙ্গীর স্বার্থপরতা বোঝার আরেকটি লক্ষণ হলো ফোন কল বা টেক্সট ব্যাক না করা। হয়তো আপনিই সবসময় সঙ্গীর খোঁজ নেন, আর সে আপনার প্রয়োজনটুকুও বোধ করে না। এমনকি আপনার মিসড কল দেখার পরও সে কখনও কল ব্যাক করে না। আপনার প্রয়োজনে এমন ব্যক্তি কখনোই পাশে থাকবে না। তাই এমন সঙ্গীর কাছ থেকে দূরে থাকুন।
৩. সব সিদ্ধান্ত আপনারই
সব বিষয়েই কি আপনার সঙ্গী উদাসীন? কোথাও যাওয়া, খাওয়া, থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে যদি আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে সঙ্গীর প্রয়োজন কোথায়! এমনকি যদি আপনার জন্মদিনেও সে কোনো উপহার না দেয় বা দিন-তারিখ ভুলে যায়, তাহলে এটি চিন্তার বিষয়। এমন মানুষ সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে না।
৪. নিজের মতামত চাপিয়ে দেওয়া
আপনার সঙ্গী কি আপনার মতামত বা ভাবনাকে কোনো পাত্তাই দেন না? এমন মানুষেরা নিজেদের দোষ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেন। তারা যা চান, জোর করে সেটাই করাতে চান। আপনার প্রয়োজনীয় কোনো কাজ থাকলেও তা বাতিল করতে বাধ্য করেন। কিন্তু নিজের প্রয়োজনে আপনার অনুভূতিকেও এরা পদতলে পিষ্ট করতে দ্বিধা বোধ করবে না। সঙ্গী হিসেবে এমন মানুষকে কখনও বেছে নেওয়া উচিত নয়।
উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলো আপনাকে সঙ্গীর আসল উদ্দেশ্য বুঝতে সাহায্য করবে। সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী ও মধুর করতে হলে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থাকা অত্যন্ত জরুরি।