পুরুষ নন, পরকীয়ায় বেশি আগ্রহী মহিলারা! চাঞ্চল্যকর সমীক্ষা

সমাজে প্রকাশ্যে পরকীয়া নিয়ে আলোচনা করা এখনও বহুলাংশে সংস্কৃতি বিরুদ্ধ হিসেবেই গণ্য হয়। তবে এক দশক আগেও এই শব্দটি যতটা নিষিদ্ধ ছিল, বর্তমানে সেই চিত্র কিছুটা হলেও পাল্টেছে। কিন্তু নিষিদ্ধ হাতছানির আকর্ষণ চিরকালই বহু নারী-পুরুষকে প্রলুব্ধ করেছে। যদিও পরকীয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগের তীর মূলত পুরুষের দিকেই নির্দেশিত হয়, সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করছে। এই সমীক্ষা বলছে, পুরুষদের তুলনায় পরকীয়ায় বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন মহিলারা!

‘গ্লিডেন’ নামক একটি বিবাহ-বহির্ভূত ডেটিং অ্যাপ সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে। বিশেষভাবে মহিলাদের জন্য তৈরি এই অ্যাপটির বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা ১৩ লক্ষ।

৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সি শহুরে, শিক্ষিত, আধুনিক এবং কর্মজীবী মহিলাদের উপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৪৮ শতাংশ মহিলা বর্তমানে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িত। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ৪৮ শতাংশ মহিলার প্রত্যেকেই একজন মা!

গ্লিডেন ছাড়াও অন্যান্য কয়েকটি সমীক্ষায় একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় ৭২ শতাংশ মহিলা জানিয়েছেন, দাম্পত্য জীবনে যৌন অতৃপ্তিই তাদের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর প্রধান কারণ। গ্লিডেনের ২০২০ সালের আরেকটি সমীক্ষা অনুসারে, ভারতে প্রায় ৫৫ শতাংশ বিবাহিত ব্যক্তি তাদের সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করার কথা স্বীকার করেছেন। এদের মধ্যে ৫৬ শতাংশই ছিলেন নারী। ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সি প্রায় ১৫২৫ জন বিবাহিত মহিলার মধ্যে চালানো এই সমীক্ষায় ৪৮ শতাংশ মহিলা স্বীকার করেছেন যে একই সময়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখা সম্ভব।

এই সমীক্ষার ফলাফল নিঃসন্দেহে সমাজ এবং সম্পর্কের গতানুগতিক ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যেখানে বরাবরই পরকীয়ার জন্য পুরুষদের দায়ী করা হতো, সেখানে মহিলাদের এই বিপুল সংখ্যায় পরকীয়া সম্পর্কে জড়ানো নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতা, যৌন অতৃপ্তি নাকি অন্য কোনো সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক কারণ এর পেছনে কাজ করছে, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। তবে এই সমীক্ষা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সম্পর্কের সমীকরণে পরিবর্তন আসছে এবং পরকীয়ার চিরাচরিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।