প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে রক্তক্ষয়ী রহস্য! বিল্ডিং থেকে পড়ে শিষ্যের মৃত্যুর নেপথ্যে কি খুন নাকি ভয়ানক আত্মহত্যা?

উত্তরপ্রদেশের মথুরা-বৃন্দাবনের প্রখ্যাত সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের কেলি কুঞ্জ আশ্রমে এক শিষ্যের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আশ্রমের চারতলা বিল্ডিং থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে রসিক দুলারি ওরফে দীপক নামের এক শিষ্যের। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একটি গ্রাউন্ড রিপোর্ট সামনে এসেছে, যেখানে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক তথ্য। বৃন্দাবন পুলিশ গোটা ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে যে রসিক দুলারি ওই বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন। ঘটনার খবর পেয়ে আশ্রমে উপস্থিত অন্য শিষ্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় সর্বোদয় হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, ঘটনাস্থল এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র রহস্য।

মৃতের ঘর তল্লাশি করতে গিয়ে ফরেন্সিক দল বেশ কিছু সন্দেহজনক জিনিস উদ্ধার করেছে। ঘরের ভেতর থেকে একটি রক্তমাখা গ্রাইন্ডার বা টাইলস কাটার মেশিন পাওয়া গিয়েছে। সবচেয়ে ভাবাচ্ছে চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট—মৃতের গোপনাঙ্গে গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তের দাগ রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার আগে কেন নিজের গোপনাঙ্গে আঘাত করবেন? তাছাড়া, গ্রাইন্ডারটি তাঁর ঘরে কীভাবে এল বা সেটি দিয়ে কেউ হামলা চালিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারী সিও সন্দীপ কুমার সিং জানান, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। মৃত ব্যক্তির সঙ্গে ওই ঘরে আরও দুই শিষ্য থাকতেন, তাঁদের এবং আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সিসিটিভি ফুটেজ ও মৃতার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারে লোকজনও এসে পৌঁছেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।